লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিজেপির কিছুটা অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। কেশপুরে এটা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়েছিল। বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষের হয়ে প্রচারে আলোড়ন তুলেছিলেন স্থানীয় মন্ডল সভাপতি শেখ সেলিম সহ বহু মুসলিম বিজেপি নেতা কর্মী। যারা বাম ও তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এক সময়। রবিবার এই সক্রিয় বিজেপির ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে। তাঁরা জানান, বিজেপির এনআরসি ও সিএএ আসলে মুসলিমদের ক্ষতি করবে। তাই মুসলিম হয়ে বিজেপির সঙ্গে থাকতে পারলেন না তাঁরা।

হাড় কাঁপানো শীতে কাবু কলকাতা, তাপমাত্রা আজও স্বাভাবিকের থেকে নীচে

জেলার কেশপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ সেলিম, শেখ আলহাজ, সহ একদল যুব রাজনৈতিক কর্মী গত লোকসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এদের হাত ধরেই ঘাটাল লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট সংগ্রহ করেছিলেন ভারতী ঘোষ। কেশপুর এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এরা সকলেই। তাই শাসকদলের রোষে পড়ে একাধিক মামলায় কয়েক মাস জেল খেটেছেন সেলিমসহ বিজেপির এই একদল নেতা-কর্মী। 

সম্প্রতি সেলিম সহ এই বিজেপি কর্মীরা জেল থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়েছেন। এর মাঝেই রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। মেদিনীপুর শহরের তৃণমূলের কার্যালয় ফেডারেশন হলে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, বিধায়ক শিউলি সাহা ও দীনেন্দ্র এর হাত থেকে পতাকা তুলে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন।  

ফেলে দিয়ে গেল প্রিয়জনরা, শীতের রাতে সদ্যোজাতকে আগলে রাখল সারমেয় 

অজিত মাইতি বলেন-বাচাল দিলীপ ঘোষ দেখুক মানুষ কী চায়। কেশপুর সহ পাশাপাশি এলাকায় বিজেপির পতাকা তোলার আর কেউ থাকবে না আগামী কয়েকদিনে।
এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে শেখ সেলিম বলেন-এনআরসি ও সিএএ এই দুটি আইন মুসলিমদের চরম ক্ষতি করবে। বিজেপির এই দুই আইন আমরা মানতে পারি না। সর্বোপরি বিজেপিতে কোনও যোগ্য নেতৃত্ব নেই। যে যার নিজের স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে দল শুরু হয়েছে।  এ বিষয়ে বিজেপির ঘাটাল জেলা সভাপতি অন্তরা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন,শাসক দল বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের দলে যোগ দেওয়ালেন ওদের। এই ভাবে মানুষের মন জয় করা যায় না। ঠিক যে পদ্ধতিতে বিজেপিতে এসেছিলেন সেভাবে নিজেরাই একদিন ফিরে আসবেন।