হাতে বিজেপির দেওয়া ৫ লক্ষ টাকার চেকে পাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই দল বদলে ফেলেছিলেন মৃতের স্ত্রী। আর তাতেই আটকে গেল চেক বাবদ দেওয়া টাকাও। বীরভূমের নানুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত স্বরূপ গড়াইয়ের স্ত্রী বিজেপি-র দেওয়া চেক ব্যাঙ্ক জমা দিয়েও টাকা তুলতে পারলেন না। কারণ, ব্যাঙ্ক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই চেকটিই বৈধ নয়। 

গত ৬ সেপ্টেম্বর নানুরের রামকৃষ্ণপুরে গুলিবিদ্ধ হন স্বরূপ গড়াই নামে এক ব্যক্তি। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই সময় নিহতকে নিজেদের সমর্থক বলে দাবি করেছিল বিজেপি। নিহতে স্ত্রী চায়না গড়াই- সহ পরিবারের সদস্যরাও তাতে সায় দিয়েছিলেন। স্বরূপের দেহ কলকাতায় বিজেপি অফিসে আনা নিয়ে প্রায় দু' দিন ধরে টানাপোড়েন চলে। মুকুল রায়- সহ একাধিক বিজেপি নেতা নানুরের রামকৃষ্ণপুরে স্বরূপের বাড়িতেও যান। সেই সময়ই স্বরূপের স্ত্রীকে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক দিয়ে আর্থিক সাহায্য করেন মুকুলবাবু। 

কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই সুর পাল্টে স্বরূপের স্ত্রী চায়না জানিয়ে দেন, তাঁর স্বামী বরাবর তৃণমূল করতেন। তিনিও তৃণমূল করেন বলেই অনুব্রত মণ্ডলের অফিসে বসে দাবি করেন চায়না। যদিও, স্বরূপ গড়াইয়ের বাবা- মা এবং পরিবারের অন্যান্যরা বিজেপি-র প্রতি নিজেদের সমর্থন অটুট রাখেন। 

এই অবস্থায় যেহেতু স্বরূপের স্ত্রীর নামে চেক দেওয়া হয়েছিল, তাই অস্বস্তিতে পড়েন বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ ততদিনে চায়না তৃণমূলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামপদ মণ্ডলও স্বীকার করে নিয়েছেন, চায়না তৃণমূল সমর্থক বলেই ওই চেক না ভাঙানোর জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেন বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে চায়নাদেবী ব্যাঙ্ক চেক জমা দিলেও তা ফিরিয়ে দেয় ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যেই চায়নাদেবীর বাড়ির ঠিকানায় সেই চেক ফেরত এসেছে। ক্ষুব্ধ চায়নাদেবী বলেন, 'মুকুল রায় আমাকে এই চেক দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু চেক জমা দেওয়ার পরে ব্যাঙ্ক থেকেই তা ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে বলেছে এই চেকে টাকা দেওয়া যাবে না।'

বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, 'স্বরূপের ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ছিলাম। কিন্তু চায়না গড়াই বলছেন তিনি তৃণমূল করেন। স্বরূপের বাবা মা গ্রামে ফিরতে পারছেন না, তাঁরা এখন অসহায়। আমরা চেক পেমেন্ট স্টপ করে দিয়েছি। স্বরূপের পরিবার এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।' বিজেপি সূত্রে খবর, ওই টাকা স্বরূপের স্ত্রীকে না দিয়ে তাঁর বাবা- মাকে দেওয়া হতে পারে। 

স্বরূপের গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন তাঁর বাবা ভূবন গড়াইও আহত হন। স্বরূপের বাবা-মাকে তৃণমূল গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ বিজেপি-র। তাঁরা এখন সিউড়িতে রয়েছেন। সেখানেই ভুবনবাবুর হাতে অস্ত্রোপচারও হয়েছে। বিজেপি তাঁদের আর্থিক সাহায্যও করে। এ দিন ভুবন গ়ড়াই বলেন, 'আমরা বিজেপি-র সমর্থক। বউমা এবং তাঁর ভাই টাকার জন্য তৃণমূলকে সমর্থন করেছে। আমরা ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।'