বহু তৃণমূল বিধায়ক তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বসে রয়েছেন। পাশাপাশি সদ্য ভোটে জেতা সাংসদ থেকে ছোট বড় নেতা, শাসক দলের অনেকেই বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূলকে বার বার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। যদিও মণিরুল ইসলামের যোগদান বিতর্কের থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃণমূল থেকে বিধায়ক, সাংসদ বা নেতাদের নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিতে বদল করছে বিজেপি। যার অর্থ, এবার থেকে চাইলেই কোনও তৃণমূল নেতা বিজেপি-তে যোগদান করতে পারবেন না। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী জনমানসে তাঁর ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক দক্ষতা কেমন, তা বিচার করেই দলে নেওয়া হবে। 

ভোটের ফল প্রকাশে কয়েকদিন পরেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যান বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। তাঁর সঙ্গেই তৃণমূল ছাড়েন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য এবং হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়। তুষারকান্তিবাবু ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। এর পরেই রাজ্য বিজেপি নেতাদেরই অবাক করে দিল্লিতে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দেন লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। তিনি বিজেপি-তে যোগদানের পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বীরভূমের নেতা, কর্মীরা। মণিরুল ইসলামের মতো বিতর্কিত চরিত্র বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় দলের মধ্যেই অনেকে তাঁর বিরোধিতা করেন। মুকুল রায় মণিরুলের যোগদানকে রণকৌশল বলে দাবি করলেও যোগদানের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেন মণিরুল। 

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই তৃণমূল নেতাদের যোগদান করানো নিয়ে ধীরে চলো পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের কেন্দ্রীয় স্তরের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, "আপাতত তৃণমূল বিধায়ক এবং শীর্ষ নেতাদের দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হবে। কোনও তৃণমূল নেতাকে দলে নেওয়ার আগে তাঁর সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর এবং দলের মতামত নিয়ে তবেই তাঁকে যোগদান করানো হবে।"  তিনি বলেন, "একমাত্র যে নেতাদের জনমানসে ভাবমূর্তি ভাল এবং যাঁদের ভাল সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাঁদেরকেই বিজেপি-তে নেওয়া হবে।"

 মণিরুল কাণ্ডের জেরেই যে এমন সিদ্ধান্ত, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন ওই কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর কথায়, "মণিরুল ইসলামের বিজেপি-তে যোগদানের ফলে দল সম্পর্কে মানুষের কাছে খারাপ বার্তা গিয়েছে। আমরা একটা ভাল বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তৃণমূলেরই রেপ্লিকা হওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়।"

ভোটের ফল বেরনোর পরে শুভ্রাংশুদের যোগদানের দিন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা দাবি করেছিলেন যে এবার থেকে দফায় দফায় তৃণমূল বিধায়ক এবং নেতাদের যোগদান পর্ব চলবে। ২০২১ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও টিকবে না। কিন্তু মণিরুল কাণ্ডের পরে আর কোনও তৃণমূল বিধায়ককে বিজেপি-তে যোগ দিতে দেখা যায়নি। দিল্লির শীর্ষ নেতারা বুঝতে পেরেছেন, বিধায়কদের দলে টেনে তৃণমূলের সংগঠনকে দুর্বল করতে পারলেও মানুষের সমর্থন হারাতে হতে পারে। কারণ যে নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে মানুষ বিজেপি-কে ভোট দিচ্ছে, তাঁদেরকেই গেরুয়া শিবিরে দেখলে বিজেপি-র বিরুদ্ধেও ভোটারদের একই মনোভাব তৈরি হতে সময় লাগবে না। তাই সবদিক বিবেচনা করেই মেপে পা ফেলতে চাইছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।