এতদিন তাঁকে দেখা যেত মুকুল রায়ের সঙ্গে। এবার সব্যসাচী দত্তের গণেশ পুজোয় একসঙ্গে হাজির হলেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় এবং অরবিন্দ মেনন। পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসক দলকে বিঁধলেন সব্যসাচী এবং মুকুল। সব্যসাচীর সঙ্গে তৃণমূলের তিক্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে আগেই পৌঁছেছিল। এ দিনের পরে শেষ পর্যন্ত দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে শাসক ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। 

সল্টলেকে প্রতিবছরই গণেশ পুজো করেন সব্যসাচী দত্ত। সেই পুজোর উদ্বোধনেই এ দিন রাজ্য বিজেপি-র দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেননকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সব্যসাচী।  পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েই সব্যসাচীর পাশে দাঁড়িয়ে ফের একবার কটাক্ষ শাসক দলকে কটাক্ষ করেন মুকুল। বিজেপি নেতা বলেন, 'সব্যসাচী আর মুকুল সমার্থক। সব্যসাচীর কোনও সমস্যায় মুকুল রায় নেই বা মুকুল রায়ের সমস্যায় সব্যসাচীর নেই, এমনটা হতে পারে না। সব্যসাচী বহু বছর ধরে এখান থেকে জিতছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এই ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন। মানুষের সঙ্গে ওর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। ওর স্ত্রীও পরে এখান থেকে জিতেছে। বাংলার সরকার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কটা কেস সাজাচ্ছে আমার জানা নেই। সব্যসাচী লড়াই, যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা মানুষ। সব্যসাচী কারও দয়ায় তৈরি হয়নি। আজকে আমাদের এখানে আসার সঙ্গে রাজনীতি আনবেন না। সব্যসাচী বিধায়ক হোক, সাংসদ হোক বা নাই হোক, ওর পুজোয় আমি আসবই। সব্যসাচীই একমাত্র, যে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে জলা ভরাট নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।'

 বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেননও তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে বলেন, 'সব্যসাচী যেভাবে নিজের এলাকায় কাজ করেছেন, তাতে ওনার বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।  বহু মানুষ তা নিয়ে বিচলিত। যাঁরা বিচলিত হচ্ছেন, তাঁদের রক্তচাপ, সুগার বাড়ছে।' 

বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে এনে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন সব্যসাচীও। মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাতেও এখন অনেক জায়গায় গণেশ পুজো হচ্ছে। গণেশ চতুর্থী হোক বা আমার ছোট কালী পুজো, এর মধ্যে সারদা- নারদা নেই। নিজেদের পকেটে যেটুকু আছে, তা দিয়েই পুজো হয়। অন্যের পকেট কাটি না। আজকে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে খারাপ লাগছে, কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরকে শান্ত করে দিল, পশ্চিমবঙ্গ শান্ত হল না। কেন্দ্রীয় সরকারের দেখা উচিত, কীভাবে বাংলায় শান্তি ফেরে।'

এখানেইন শেষ নয়। বিধাননগর কলেজকে ফের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার জন্যও বিজেপি নেতাদের কাছে আবেদন করেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র। সব্যসাচী বলেন, 'ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবে জানি না। আপনাদের হাতে কোনও ক্ষমতা থাকলে বিধাননগর কলেজকে ফের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনবেন। বিষয়টি নিয়ে আমি শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি, মুখ্যমন্ত্রীকেও বলেছি। কিন্তু তার পরেও দুটো প্রশাসনিক বৈঠক হয়ে গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কবে হবে জানিনা।'

সব্যসাচীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পরে বলেন, 'গত দু' তিন মাস ধরে কাশ্মীরে কোনও খুন খারাপি চলেনি। কিন্তু বাংলায় জেলায় জেলায় খুন, গুলি, বোমাবাজি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কলকাতাকে লন্ডন, দার্জিলিংকে সুইৎজারল্যান্ড এবং দিঘাকে গোয়া বানাবেন, কিন্তু বাংলা যে কাশ্মীর হয়ে যাবে, তা বুঝতে পারলে বাংলার মানুষ পরিবর্তন আনতেন না।'

এ দিন গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ প্রসেনজিৎ সর্দার এবং কাউন্সিলর শিবু ভাণ্ডারি। এর থেকেই বিধাননগরে তৃণমূলের মধ্যে ভাঙনের ছবি আরও স্পষ্ট করে দিলেন সব্যসাচী। রাজারহাট- নিউটাউনের অন্তর্গত পঞ্চায়েত এলাকা থেকেও তৃণমূলের অনেকে এ দিন সব্যসাচীর গণেশ পুজোয় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাতেও এখন অনেক জায়গায় গণেশ পুজো হচ্ছে। গণেশ চতুর্থী হোক বা আমার ছোট কালী পুজো, এর মধ্যে সারদা- নারদা নেই। নিজেদের পকেটে যেটুকু আছে, তা দিয়েই পুজো হয়। অন্যের পকেট কাটি না। আজকে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে খারাপ লাগছে, কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীর শান্ত করে দিল, পশ্চিমবঙ্গ শান্ত হল না। কেন্দ্রীয় সরকারের দেখা উচিত, কীভাবে বাংলায় শান্তি ফেরে।