বিজেপি-র ডাকা বারো ঘণ্টার বনধে দফায় দফায় উত্তপ্ত হল ব্যারাকপুর মহকুমা এলাকা। কোথাও তৃণমূলের সঙ্গে, কোথাও আবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালেন বিজেপি সমর্থকরা। সংঘর্ষে আহত হয়ে তাদের কুড়ি থেকে পঁচিশজন সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি বলে দাবি বিজেপি-র। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই তৃণমূল সমর্থক এবং দুই পুলিশ কর্মীও। 

এ দিন সকাল থেকেই বনধের সমর্থনে রেল এবং রাস্তা অবরোধ শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। যদিও রেল পরিষেবাকে বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। জগদ্দল, কাঁকিনাড়া এবং শ্যামনগর স্টেশনে অবরোধ করা হয়। একই ভাবে রাস্তা অবরোধ হয় পানপুর, বাসুদেবপুর মোড়, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং নীলগঞ্জ মোড়ে। সব জায়গাতেই অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। টিটাগড়ে পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে দু' পক্ষের সংঘর্ষে জখম হন দুই পুলিশকর্মী। অবরোধকারীদের তাড়াও করেন পুলিশবাহিনী। 

ব্যারাকপুর জাফরপুর মোড়ে কয়েকজন বনধ সমর্থককে তৃণমূল কর্মীরা মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে আরও বেশি সংখ্যায় বিজেপি সমর্থকরা এলাকায় জড়ো হতেই তৃণমূল কর্মী- সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনাতেও দু' পক্ষেরই দু' জন করে জখম হয় বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি বীজপুর, কাঁচরাপাড়া এবং দত্তপুকুরেও তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষ বাঁধে। বেশ বেলা বাড়তে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। 

যদিও, ব্যারাকপুরের প্রায় সর্বত্রই চাপা উত্তেজনা এবং থমথমে ভাব চোখে পড়েছে। অশান্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার প্রতিক্রিয়া নিতে সাংবাদিকরা জগদ্দল থানায় পৌঁছলে এসিপি অজয় ঠাকুরের নেতৃত্বে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।