ফের এক মহিলার দেহ মিলল মালদহে। এবার চাঁচোলের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলার দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখে দেহ সনাক্ত করেছেন পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

মৃতার নাম বিউটি খাতুন। মালদহের চাঁচোলে নয়াগ্রাম এলাকায় বাড়ি বছর পঁয়তিরিশের ওই মহিলার। বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান বিউটি। তেমনই দাবি পরিবারের লোকেদের। তাঁদের বক্তব্য, রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়েছিল। কিন্তু বিউটির সন্ধান মেলেনি।  বৃহস্পতিবার সকালে চাঁচোলেরই একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় এক মহিলার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় থানায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতার শরীরে একাধিক জায়গায় আঁচড়ানোর দাগ ছিল, ওড়না ছড়ানো ছিল গলায়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই তরুণী চারমাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু মৃতার পরিচয় কী? তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার দেহের ছবি পোষ্ট করে পুলিশ। সেই ছবি দেখে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিউটির পরিবার লোকেরা। মালদহ জেলা হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহটি সনাক্তও করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: দিনেদুপুরে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে লুট লক্ষাধিক টাকা, চাঞ্চল্য মেদিনীপুরে


কিন্তু কীভাবে মারা গেলেন বিউটি খাতুন? ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ করেছেন মৃতার পরিবারের লোকেরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশেরও অনুমান, বিউটিকে শ্বাসরোধ করে খুনই করা হয়েছে।  কিন্তু খুনের আগে কি ধর্ষণ করা হয়েছিল? নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তে রিপোর্টে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানা গিয়েছে। 

উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে মালদহের টিপাজনি গ্রামে আমবাগান থেকে এক তরুণীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে।  বুধবার আংটি, হাতের বালা দেখে মৃতদেহটি সনাক্ত করেন পরিবারের লোকেরা। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে ভাড়া বাড়িতে এক সন্তানকে নিয়ে একাই থাকতেন বিবাহ বিচ্ছিন্না ওই তরুণীর। মালদহের বাসিন্দা ছোটন ঘোষ নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। ছোটন আবার বিবাহিত।   বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার সে শ্বাসরোধ করে ওই তরুণীকে খুন করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক মহিলার দেহ মিলল মালদহে।