দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং গ্রেফতারির পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। গ্রেফতার হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বাড়ি থেকে ওষুধ ও খাবার নিয়ে যাওয়া হয়। ইডি দফতরে পৌঁছান তার স্ত্রী ও মেয়ে।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করার কথা জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এদিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন সুজিত। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাজিরা দেওয়ার পর প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করেন ইডি আধিকারিকরা। এরপর রাতে প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হল। এর আগে ১ মে ইডি দফতরে হাজিরা দেন সুজিত। তখনই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল কিন্তু সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও আদালত থেকে রক্ষাকবচ পাননি তিনি। ফলে সোমবার হাজিরা দিতেই হয়। এদিন আইনজীবীকে নিয়ে ইডি দফতরে হাজিরা দেন সুজিত। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হল না। তিনি গ্রেফতারি এড়াতে পারলেন না।
ইডি সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। গ্রুপ সি ও ডি কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গাড়ি চালক, স্বাস্থ্য কর্মী, ঝাড়দার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে এমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছিল।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এর আগে সুজিতের বাসভবন, অফিস, প্রাক্তন মন্ত্রীর মালিকানাধীন ধাবায় তল্লাশি চালায় ইডি। সুজিতের ছেলে সমুদ্র বসু-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও তলব করে ইডি। সোমবারও সুজিতের সঙ্গে ইডি দফতরে যান সমুদ্র। প্রাক্তন মন্ত্রীকে সোমবার রাতে ইডি হেফাজতে থাকতে হচ্ছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। আপাতত এই রাজনীতিবিদকে নিজেদের হেফাজতেই রাখতে চাইছে ইডি।


