বাংলা যেন জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। ফের শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থেকে জঙ্গি সন্দেহে এক যুবক-কে আটক করে নিয়ে গেল বিএসএফ-এর জওয়ানরা। তার সঙ্গে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকেই গ্রেফতার হওয়া আল কায়দা জঙ্গি আল মামুন কামালের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে ধৃত যুবকের নাম সামিম আনসারী। জলঙ্গির নওদাপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে আচমকা তার বাড়িতে হানা দেয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। সামিমের আধার কার্ডের তথ্য বলছে তার বয়স ২৫ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে পেশায় সামীম রাজমিস্ত্রি। এর আগে অন্তত দু'বছর সে কেরলে কাজ করত। বছরখানেক আগে জলঙ্গিতে ফিরে এসে সে তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে  থাকতে শুরু করেছিল।

বিএসএফ-এর একটি সূত্র জানিয়েছে জলঙ্গি-তে আসার পরই তার সঙ্গে পরিচয় হয় আল কায়দা জঙ্গি আল মামুন কামালের। ধীরে ধীরে দু'জনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে মুর্শিদাবাদের ডোমকল-জলঙ্গি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ। অভিযোগ, তারা সকলেই কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা-র সদস্য। আল মামুন কামাল তাদেরই একজন।

ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করার সময়ই এনআইএ-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ধৃতরা সকলেই একটি নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য়। সেখানে, সন্ত্রাসবাদী আলোচনার পর সব বার্তা মুছে দেওয়া হতো। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছিলেন, ওই গ্রুপের বাকি সদস্যদেরও খোঁজ চালানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা-সহ অন্যান্য রাজ্যেও তারা ছড়িয়ে রয়েছে। সামীম-কেও সেই যোগেই গ্রেফতার করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।

বস্তুত, এদিনের গ্রেফতারি নিয়ে সরকারিভাবে বিশদে কিছুই জানানো হয়নি বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে। এদিকে, সামীম-এর পরিবার এবং পাড়া প্রতিবেশিরা এই ঘটনায় বিস্মিত। প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন সামীম-এর জঙ্গি যোগ থাকতে পারে তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। আর তার মা অভিযোগ করেছেন, বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে কিছু না জানিয়েই তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকী, কারা তাকে ধরে নিয়ে গেল, তাও প্রথমে তিনি বুঝতে পরেননি।