বরযাত্রী খেতে গিয়ে আর একটু হলেই নেমে আসতে পারত বিপর্যয়। কিন্তু আগাম সতর্কতা এবং বুদ্ধির জোরেই প্রাণে বাঁচলেন বাস বোঝাই বরযাত্রী। মালগাড়ির ধাক্কায় আস্ত বাস উল্টে গেলেও কেউই চোট আঘাত পাননি। কারণ বিপদ আন্দাজ করে আগেভাগেই বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন যাত্রীরা। 

ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি থানার বড়বাঈদ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বড়জোড়া  থানা এলাকা থেকে বরযাত্রী নিয়ে বাসটি বড়বাঈদ গ্রামে এসেছিল।  রাত প্রায় একটা নাগাদ বিয়ে বাড়ি থেকে বরযাত্রীদের নিয়ে বাসটি ফের বড়জোড়া ফিরছিল।  ফেরার সময় বড়বাজ গ্রাম ছাড়িয়ে একটি প্রহরিবিহীন লেভেল ক্রসিং পেরনোর সময় বাসটি রেল লাইনের উপরেই আটকে যায়। ওই রেল লাইনটি ডিভিসি-র মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গিয়েছে। যেহেতু ওই রেল লাইন দিয়ে মাঝে মধ্যেই মালগাড়ি চলাচল করে, তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে যাত্রীরা সবাই বাস থেকে সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসেন। 

এর মিনিট কুড়ির মধ্যেই মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে আশা একটি কয়লা বোঝাই মালগাড়ি রেল লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ধাক্কা মারলে সেটি রেল লাইনের ধারেই উল্টে পড়ে। কতবড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তা ভেবেই তখন শিউরে উঠছেন যাত্রীরা। 

এই ঘটনায় ডিভিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুক্রবার রাতে রেল লাইনের উপরে বাস আটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কথা জানানো হয়। অভিযোগ, তার পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। আগেভাগে জানানো সত্ত্বেও কেন মালগাড়িটিকে  থামানো হল না, সেই প্রশ্ন তুলে এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে ডিভিসি কর্তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার মানুষের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রহরী যুক্ত লেভেল ক্রসিং করার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি ডিভিসি কর্তারা। যে কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রহরী যুক্ত লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন ডিভিসি কর্তারা।