পুলিশের তোলাবাজির হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন এক বাইক চালক। কিন্তু তারজেরে যে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, তা কে জানত! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে উল্টে গেল একটি বাস। বাসে চাপা পড়ে প্রাণ গেল দু'জন। দুর্ঘটনায় কম-বেশি চোট পেয়েছেন বাসের ৪৫ জন যাত্রী। অনেকের শারীরিক অবস্থা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। প্রতিবাদে রাস্তা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলল পথ অবরোধও। অগ্নিগর্ভ পূর্ব বর্ধমানের কালনা। 

জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা থেকে কালনার দিকে যাচ্ছিল এক যাত্রীবোধাই বাস। কালনার কেষ্টপুরে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। রাস্তার ধারে উল্টে পড়ে বাসটি। তখন রাস্তা বাইকে রেখে গল্প করছিলেন দুই ব্যক্তি। বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান দু'জনই। আহত হন বাসের ৪৫ জন যাত্রীরা। সকলকেই উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় কালনা মহকুমা হাসপাতালে।

এদিকে এই ঘটনার পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা।  দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় টায়ার জ্বেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুরু হয়ে যায় অবরোধ। এমনকী, খবর পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন পুলিশকর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। এমনকী, এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একসময়ে অবরোধকারীদের দিকে পুলিশে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে আসতে দেখা যায়। এলাকার পরিস্থিতি যথেষ্ট থমথমে, মোতায়েন প্রচুর পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ধমান-কালনা রোডে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। বুধবার সকালে পুলিশের তোলাবাজি থেকে বাঁচতে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এক বাইক আরোহী। আর তখনই উল্টো দিকে আসা দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাসটির সামনে পড়ে যান তিনি।  দুর্ঘটনা এড়াতে গিয়ে শেষপর্যন্ত বাসের নিয়ন্ত্রণ হারান চালক।