বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। আটটি বাড়ির মালিকদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বাসিন্দারা তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করতে পারবেন।
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে ১৩ মে থেকে বেআইনি নির্মানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বুলডোজার ব্যবহার করে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বেআইনি নির্মান। এরপর আটটি বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের মামলার একযোগে শুনানি হল কলকাতা হাইকোর্টে।

বেআইনি ভাবে বাড়ি ভাঙা হয়েছে এবং সেই সব বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে দেওয়ায় কোনও জিনিসপত্রই বসবাসকারীরা বের করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের গ্রীষ্মাবকাশকালীর বেঞ্চে হয়েছে শুনানি। বেঞ্চের রুলস না মেলে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালতের নির্দেশ, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসার,পুরসভায় প্রতিনিধি ও আবেদনকারীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তালা খুলে প্রয়োজনীয় জিনিস বের করবে মামলাকারীরা। তবে, তদন্তের স্বার্থে যদি তদন্তকারী অফিসার মনে করেন, তাহলে সেই নথি বা জিনিস নিতে পারবেন না কেউ। সব ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে সব পক্ষকে যথাযথ নোটিস দিয়ে ডেকে পুরসভাকে আইন মেনে শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমনই জানিয়ে দল হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, ১২ মে রাতে তিলজলার একটি বিল্ডিং-এ আগুন লেগে বড়সড় ক্ষতি হয়। তারপর ওই বিল্ডিং বেআইনি বলে চর্চা শুরু হয়। এরপর বুলডোজার নিয়ে গিয়েেই নির্মান ভাঙা শুরু করে সরকার। এর পাশাপাশি তপসিয়া, কসবাতেও গত কয়েক দিন ধরে বুলডোজার নিয়ে তা ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর কসবা ও তপশিয়া এলাকায় অনেক জায়গাতেই বুলডোজার চালানো হয়। ভেঙে ফেলা হয় বেআইনি নির্মান। কয়েকক্ষেত্রে নোটিস দেওয়ার ২ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলা হয় এই নির্মানগুলো। এরপর মামলা দায়ের হয় আদালতে। সদ্য হল শুনানি। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরসভাকে যেকোনো পদক্ষেপের আগে ৩০ দিনের নোটিস দিতে হবে। আইন মেনে শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তদন্তকারী অফিসার প্রয়োজনে জিনিস আটক করতে পারবেন।


