কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে ফের সিবিআই হানা। ইতিমধ্যেই সারদা কাণ্ডে রাজীবকে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ শেষ হয়েছে। তার পরেই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে কলকাতার লাইডন স্ট্রিটে রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছে চারজনের সিবিআইয়ের একটি দল। ৩৪/২ পার্ক স্ট্রিটে আইপিএস কোয়ার্টারে রাজীবের কলকাতার ঠিকানায় এ দিন সন্ধ্যায় পৌঁছে যান চার সিবিআই অফিসার। রাজীবকে শেষ পর্যন্ত সিবিআই গ্রেফতার করতে পারে বলেই সূত্রের খবর। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। তখন রাজীব কলকাতার নগরপাল ছিলেন। এর পরেই বিষয়টি গড়ায় সু্প্রিম কোর্টে। তখন রাজীবকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল সু্প্রিম কোর্ট। এর পরে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শিলংয়য়ে গিয়ে রাজীব কুমার সিবিআই জেরার মুখোমুখি হন। কিন্তু রাজীব জেরায় সহযোহিতা করেননি বলে ফের আদালতে গিয়ে রাজীবকে হেফাজতে নেয় সিবিআই। শেষ পর্যন্ত গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সিবিআইয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজীবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে আগাম জামিনের আবেদন করার জন্য রাজীবকে সাতদিনের রক্ষাকবচ দেয় আদালত। কিন্তু রাজ্যের আদালতে কর্মবিরতি চলতে থাকায় আদালতের নির্দেশ মতো গত ২৪ মে-র মধ্যে রাজ্যের কোনও আদালতেই জামিনের আবেদন করতে পারেননি রাজীব। 

ফলে রাজীবকে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেই প্রথমে রাজীবের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে সিবিআই। তার পরেই সম্ভবত তাঁকে গ্রেফতার করতেই কলকাতার বাড়িতে হানা দিয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা। এ দিনও প্রথমে রাজীব কুমারের বাড়িতে প্রবেশের সময় সিবিআই গোয়েন্দাদের বাধা দেন কলকাতা পুলিশের কর্মীরা। কিন্তু আইনি কাগজপত্র দেখানোর পরে সিবিআই গোয়েন্দাদের আর বাধা দেয়নি পুলিশ। 

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজীব কুমারকে ফের এডিজি সিআইডি পদে ফিরিয়ে আনল রাজ্য সরকার। শেষ দফার নির্বাচনের আগে রাজীব কুমারকে দিল্লিতে বদলি করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হওয়ার পরেই রাজ্য সরকার নির্দেশিকা জারি করে রাজীবকে পুরনো পদে ফিরিয়ে আনল রাজ্য।