শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতে শুরু হল করোনার টিকাকরণ  অভিযান। আর প্রথমদিনই ভ্যাকসিন নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্ন থেকে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনের তুলনায় কেন্দ্র অনেক কম ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে রাজ্যে। এই অবস্থায় প্রয়োজনে টিকা প্রস্তুতকারকদের থেকে সরাসরি টিকা কিনবে রাজ্য সরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে সারা দেশের মতো বাংলাতেও কোভিড টিকাকরণের কাজ শুরু হয়। বিকেলে নবান্নে বসে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের যে পরিমাণ করোনা টিকা দদরকার ছিল, তার থেকে কম টিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তিনি জানান, শুধু ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্যই নয়, রাজ্যের সকলের জন্য ভারত সরকারকে টিকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে তাঁর সরকার। তৃণমূল সরকার রাজ্যবাসীকে বিনামূল্যে টিকাদান থেকে বঞ্চিত হতে দেবে না। প্রয়োজনে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে সরাসরি ভ্যাকসিন কিনে রাজ্যবাসীর জন্য  বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করা হবে।

তবে রাজ্যে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মমতা এই প্রথম দিলেন না। দিনকয়েক আগেই এই ঘোষণা করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে তা একুশের ভোটের আগে নির্বাচনী চমক বলে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা। বিজেপি জানিয়েছিল, কেন্দ্রের পক্ষ থেকেই বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। মোদী সরকারের টিকাকরণ অভিযানও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নকল করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেছিল। প্রসঙ্গত, প্রথম পর্যায়ে ৩০ কোটি ভারতীয়কে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার হলেও, পরের দফাগুলির ব্যয়ভার কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের এই অভিযোগ সরাসরি নস্যাত করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। উল্টে তিনি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকাদান কেন্দ্র না তৈরি করতে পারার অভিযোগ করেছেন মমতা সরকারের বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে কেন স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতারাও কীভাবে টিকা পাচ্ছেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।