বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া: বাবা-মা থেকে দু'জনেই পরিযায়ী শ্রমিক। ভিনরাজ্য থেকে ফেরার পথে স্পেশাল ট্রেনে মারা গেল দুধের শিশু! বুধবার ভোরে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা ভদ্রকে। রেলের অমানবিকতারই কি মাশুল দিলেন পুরুলিয়ার দম্পতি? রেল বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আরও পড়ুন: স্ত্রীর করোনা গোপন স্বামীর, হোম কোয়ারেন্টাইনে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন কর্মী

শখ করে নয়, পেটের দায়ে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যেতে হয় তাঁদের। লকডাউনে জেরে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন রাজ্যে। তাঁদের জন্য স্পেশাল ট্রেনেরও ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তাতে কি আদৌও কোনও লাভ হচ্ছে? বরং ট্রেনে পর্যাপ্ত পানীয়  জল ও খাবারের অভাবে শ্রমিকদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ। রেলের অমানবিক আচরণেই কি শিশুসন্তানকে হারালেন পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতি? ঘটনায় শোকের ছায়া পুরুলিয়ায়।

পুরুলিয়ার জয়পুর থানার বালি গ্রামের বাসিন্দা দিলদার আনসারি। স্ত্রীর রেশমা ও শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন কেরলের কাহানগড়ে। ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন রেশমাও। লকডাউনের জেরে এখন কাজকর্ম বন্ধ, রোজগারও নেই।  দিলদার জানিয়েছেন, সোমবার কাহানগড় স্টেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়িগামী স্পেশাল ট্রেনে উঠেছিলেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ট্রেন যখন ওড়িশার ভদ্রক স্টেশনের কাছে পৌঁছয়, তখন আচমকাই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় তার। কিন্ত সহযোগিতা তো দূর, রেলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই পরিযায়ী শ্রমিককে রীতিমতো ধমক খেতে হয় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত একরত্তি শিশুটিকে মারা যায়। 

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে বহিরাগতদের কাজে যোগ দিতে 'বাধা', অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা

জানা গিয়েছে, সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে খড়গপুর স্টেশনে নামেন দিলদার ও রেশমা। সেখানে শিশুটির ময়নাতদন্ত হয়। এরপর অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে বুধবার রাতে ওই দম্পতিতে গ্রামে ফিরিয়ে আনে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি গিয়ে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক সম্মেলনে রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।