মিঠু সাহা, শিলিগুড়ি: সরকারি কর্মীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় বিপদ আরও বাড়বে না তো? করোনা সতর্কতায় ১৪ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো নির্দেশ দিল কর্তৃপক্ষ। আনলক পর্বে কাজকর্ম শিকেয় উঠল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে বহিরাগতদের কাজে যোগ দিতে 'বাধা', অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা

করোনা সতর্কতায় লকডাউন চলেছে প্রায় তিন মাস। এখন আনলক প্রক্রিয়া চলছে দেশজুড়ে। ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে এ রাজ্যও। রাস্তায় নেমেছে সরকারি বাস, চলছে অটো-ট্যাক্সি, এমনকী অ্যাপ ক্য়াব। সোমবার থেকে খুলেছে সরকারি ও বেসরকারি অফিসও। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে ৩০ জুন পর্যন্ত এ রাজ্যে সমস্ত সরকারি স্কুল বন্ধ থাকবে। অগাস্টের আগে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়েও পঠনপাঠন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেও চলে। কিন্তু ঘটনা হল, দ্বিতীয় দফায় লকজাউন জারি হওয়ার পর জনা পনেরো কর্মী কাজ করছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। তবে করোনা আতঙ্কে আর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: 'বাড়ি ফেরার অনুমতি দিতে হবে', কোয়ারেন্টাইনে সেন্টারে অনশনে পরিযায়ী শ্রমিকরা

জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে কর্মরত এক ব্য়ক্তি স্ত্রীর করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসা চলছে তাঁর। কিন্তু সেকথা গোপন রেখেই দিব্যি লাইব্রেরিতে কাজ করে যাচ্ছিলেন ওই কর্মী। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি লাইব্রেরিটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখানেই শেষ নয়। করোনা আক্রান্তের স্বামীর সংস্পর্শে এসেছে, এমন চোদ্দজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।  অন্য কর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকার। তাঁর আক্ষেপ, 'করোনা নিয়ে সকলেরই দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র একজনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য় লাইব্রেরি বন্ধ করে দিতে হল।'