তৃণমূলের রেজোলিউশন বুকে ৭০ জন বিধায়কের সই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। বৈঠকের তারিখ ও সই বিকৃতির অভিযোগ ওঠায় তদন্তে নেমেছে সিআইডি। এই রহস্যের কিনারা করতে অভিষেকের বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারীরা, কারণ চিঠিটি তাঁর প্যাডেই জমা দেওয়া হয়েছিল।
বিধায়কদের সই নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি। প্রথমে নাম, তারপর ঠিকানা এবং শেষে তারিখ- এভাবে তৃণমূলের মিটিং রেজোলিউশন বুকে পর পর ৭০ জন বিধায়কের সই আছে। এরই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে বৈঠকের তারিখ।

রাজ্য বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করতে ১৯ মে কালীঘাটে বৈঠক হয়। কিন্তু, বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিতে তারিখ উল্লেখ আছে ৬ মে।
এদিকে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, এই চিঠিতে কেউ ক্যাপিটাল লেটারে, কেউ স্মল লেটারে তো কেউ শর্ট সিগনেচার করেছে। এদিকে অনেক বিধায়ক দাবি করেছেন, তারা ৬ মে কোনও রেজোলিউশন বুকে সাক্ষর করেননি। তাহলে তাঁদের নাম, ঠিকানা-সহ কে বা কারা সই করল?
এই রহস্যের কিনারা করতে আগামী ৮ জুন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারী অফিসারেরা। কারণে বিধানসভায় ওই চিঠি তাঁর প্যাডে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সই বিকৃতির তদন্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সইয়ের নীচে তারিখ লেখা ৫ মে। অথচ মিটিং হয়েছিল ৬ মে। তাহলে কেন আগের দিনের তারিখ লেখা তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এদিকে সিআইডি সূত্রে খবর, সন্দেহভাজন বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের নথি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট আসা পর্ন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে তার আগেই অভিষেকের বয়ান রেকর্ড করতে চাইছেন তাঁরা। কারণ বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন এই মিটিং রেজোলিউশন বুকে সই করার বিষয় অভিষেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।


