ছেলের সাফল্যে এতটাই খুশি বাবা সামসুদ্দিন মিদ্দ্যা যে উপহার দিতে গিয়ে বাজেটের কথা একবারও ভাবেননি। কারণ, ছেলের BMW চড়ার আবদার যে অনেক দিনের! ছেলের পছন্দের গাড়ি কিনতে সোজা মুম্বইয়ের অন্ধেরিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন সামসুদ্দিন।

নন্টে-ফন্টে কিংবা হাঁদা-ভোঁদার কমিকস নয়, নতুন গল্পের বই বা স্কুলব্যাগও নয়। পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সাইকেল পাওয়ার স্বপ্নও অনেকের থাকে। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের গলসির তালহার ভাগ্যটা যে একেবারেই আলাদা! ক্লাস নাইনের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতেই বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেল ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার ঝাঁ চকচকে BMW M4 Competition। বয়স মাত্র ১৫ বছর। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই। তাতে কী? আপাতত বাবার পাশে বসেই বিলাসবহুল গাড়ির সফর উপভোগ করবে সে!

তালহা পূর্ব বর্ধমানের গলসির শ্রীচৈতন্য টেকনো স্কুলের ছাত্র। সম্প্রতি হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় নজরকাড়া ফল করেছে সে। যদিও ঠিক কত নম্বর পেয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ছেলের সাফল্যে এতটাই খুশি বাবা সামসুদ্দিন মিদ্দ্যা যে উপহার দিতে গিয়ে বাজেটের কথা একবারও ভাবেননি। কারণ, ছেলের BMW চড়ার আবদার যে অনেক দিনের!

গলসির বাসিন্দা সামসুদ্দিনের ব্যবসার পরিধিও বেশ বড়। এলাকায় তাঁর চারটি রাইস মিল রয়েছে। শুধু দেশেই নয়, চিন ও ভিয়েতনামেও চাল রপ্তানি করেন তিনি। বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। নিজের গ্যারাজে রয়েছে Range Rover, Volvo, Mahindra Thar থেকে Hyundai Alcazar-এর মতো একাধিক গাড়ি। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল BMW M4 Competition।

ছেলের পছন্দের গাড়ি কিনতে সোজা মুম্বইয়ের অন্ধেরিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন সামসুদ্দিন। সেখানকার একটি নামী শোরুম থেকে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে কিনেছেন গাড়িটি। শুক্রবার বিশেষ কন্টেনারে করে সেটি এসে পৌঁছয় গলসিতে। গাড়ির রংও নজরকাড়া। নতুন BMW-কে সামনে পেয়ে বাবা-ছেলের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। গাড়ির নম্বর প্লেট নিয়েও রয়েছে বিশেষ পছন্দ। সামসুদ্দিনের একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ৫৫৫। বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের গাড়ির নম্বরের সঙ্গেও মেলে সেই পছন্দ।

সামসুদ্দিনের কথায়, অনেক আগেই ছেলে BMW কেনার আবদার জানিয়েছিল। তাই ভালো রেজাল্ট করতেই সেই ইচ্ছেপূরণ করেছেন তিনি। অন্যদিকে তালহাও জানিয়েছে, সপ্তাহে একদিন গাড়িতে ঘুরতে বেরবে। তবে চালকের আসনে থাকবে বাবা, পাশে বসবে সে।

কিন্তু এখানেই উঠছে অন্য প্রশ্ন। তালহার বয়স মাত্র ১৫। অর্থাৎ, এখনও গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার বয়সই হয়নি তার। ফলে আপাতত BMW চালানোর স্বপ্ন দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। ছেলের ভালো ফলের জন্য এমন রাজকীয় উপহার নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। তবে এই বিপুল দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নাবালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। পরীক্ষার রেজাল্টের পুরস্কার হিসেবে কারও ভাগ্যে নতুন বই, কারও সাইকেল, আর কারও ভাগ্যে সোজা BMW!