পলাশকান্তি মণ্ডল, নদিয়া: পনেরো বছরের মেয়ের জন্য চুয়ান্ন বছরের পাত্র ঠিক করেছিলেম মা। কিন্তু পড়াশোনা করতে বদ্ধপরিকর ছিল নাবালিকা। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীটি বিয়ে তো রুখেই দিয়েছে, এমন কী বাড়ি ছেড়ে হোমে গিয়ে থাকার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছে সে। 

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ওই নাবালিকা নদিয়ার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাহেরপুর গার্লস হাইস্কুলে পড়ে সে। কিশোরীর অভিযোগ, তার অমতেই তার মা পাড়ারই বাসিন্দা তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে ফেলে। তপন বিশ্বাস নামেল যে তৃণমূল নেতার সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়, তার বয়স চুয়ান্ন। তিনি স্থানীয় বারাসত গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল সদস্য। ওই কিশোরীর বাবা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। কিশোরীর অভিযোগ, বাবার অজান্তেই বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন মা। বার বার আপত্তি জানালেও মেয়ের কথা কানে তোলেননি তিনি। 

শেষ পর্যন্ত নিজের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী। শিক্ষিকার মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারেন রানাঘাট এক নম্বর ব্লকের বিডিও সঞ্জীব সরকার। এর পরেই মঙ্গলবার বিডিও অফিস থেকে আধিকারিকরা এসে ওই ছাত্রীর বাড়ি এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। বিডিও অফিস থেকেই জেলা চাইল্ড লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিশোরীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

এবারের মতো বিয়ে রুখে দিতে পারলেও ওই ছাত্রীর আশঙ্কা, ফের তার বাড়ি থেকে একই চেষ্টা করা হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই প্রশাসনের কাছে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানায় ওই নাবালিকা। তার ইচ্ছে মতোই ওই ছাত্রীকে নদিয়া  জেলা চাইল্ড লাইনের তরফে ওই কিশোরীকে নদিয়ার একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ার পর্যন্ত এবং তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যাতে বিয়ে না দেওয়া হয়, প্রশাসনের তরফে বাড়ির লোককে তা বার বার বোঝানো হয়েছে। শিশু সুরক্ষা কোর্টে ওই কিশোরীকে পেশ করার পরই সে কোথায় থাকবে, তা পাকাপাকিভাবে ঠিক করা হবে। তৃণমূলের যে পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল, বিপদ বুঝে তিনিও গা ঢাকা দিয়েছেন। 

বিয়ে রুখে দিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত ওই নাবালিকা বলে, 'মাকে অনেকবার বলেছিলাম আমি বিয়ে করতে চাই না, কিন্তু শোনেনি। আমি এখন আর বাড়িতে ফিরতে চাই না, হোমে যেতে চাই।'