প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক বিতর্কে রেগে আগুন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা। এদিন তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের যে কথা বারবার বলা হচ্ছে, আদপে সেরকম কোনও বৈঠকই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। তার পরেও বাংলার ওপরে দোষ চাপানো হচ্ছে। 

এদিন মমতা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রায় দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করেছেন তাঁরা। প্রথমে সাগরে নামার সময় বলা হয় প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার আসছে, সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফলে আকাশেই ঘুরপাক খেতে থাকে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। প্রায় ২০ মিনিট পরে নামার অনুমতি মেলে। মমতা বলেন প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে সেই সময়টুকু তাঁরা অবতরণ করেননি। 

মমতার অভিযোগ একজন মুখ্যমন্ত্রী কখন আসছেন বা কখন যাবেন, তার সব রকম তথ্য সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা আধিকারিকদের কাছে ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী পদটিকে সম্মান জানিয়ে সেই অপেক্ষা তাঁরা করেছেন বলে এদিন জানান মমতা। পাশাপাশি, মমতা বলেন এরপরে যখন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান, তারপরেও ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। তিনি ও রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় অপেক্ষা করেন। 

মমতার দাবি প্রধানমন্ত্রীকে সাইক্লোন সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ ও নথি তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সেজন্য একটি ঘরে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। এসপিজিকে বলা হলে আরও এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে বলা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর মমতা বাধ্য হয়ে কনফারেন্সে রুমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিস্তারিত রিপোর্ট ধরান। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। কিন্তু তার পরেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলার দোষ কোথায়, প্রশ্ন করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের নামে প্রহসন করেছে কেন্দ্র। এই বৈঠকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই। 

মমতার দাবি পূর্ব নির্ধারিত দীঘা সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সেকথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। তিনি অনুমতি দেওয়ার পরেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। 

একাধিক বিজেপি নেতা মন্ত্রীর দাবি এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠকে যোগ না দিয়ে, তাঁকে শুধু বাংলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ধরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া না হলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এর আগে কখনও কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপালের মতো উচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীদের সঙ্গে এমন অসম্মানজনক ও অহঙ্কারী আচরণ করেননি। সূত্রের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্র।