কৃষকদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানে এক জনসভা থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পসেটের বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে সরকারি ভর্তুকির ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক এই বিদ্যুৎ ভর্তুকির সুবিধা পাবেন।

কৃষকদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানে এক জনসভা থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পসেটের বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে সরকারি ভর্তুকির ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক এই বিদ্যুৎ ভর্তুকির সুবিধা পাবেন। আগামী কোয়ার্টার থেকেই এই সুবিধা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও কৃষকের কৃষিকাজে বছরে ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল হলে এই ভর্তুকির ফলে বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ১ অগস্ট ২০২৬ থেকে এই ভর্তুকি কার্যকর ধরা হয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে সুবিধা দিতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে।

কৃষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে ২৭০০ টাকা করার কথা জানান তিনি। এর ফলে ধান চাষিদের আয় বাড়বে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে। কৃষকদের আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীদের যুক্ত করে কেন্দ্রীয় ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকার আরও ৩ হাজার টাকা যোগ করবে। ফলে কৃষকরা মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হবে। সামান্য জমির মালিকরা বছরে ৪ হাজার টাকা এবং তুলনামূলক বেশি জমির মালিকরা ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

ধান কেনার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ফড়েদের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে। এই প্রসঙ্গে ধানকল মালিকদের একাংশের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। ধান কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অনিয়ম বা কৃষকদের ঠকানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন। শুভেন্দুর বক্তব্যে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং তাঁদের উৎপাদন খরচ কমানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিদ্যুৎ ভর্তুকি, ধানের MSP বৃদ্ধি এবং সরাসরি ধান কেনার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে কৃষকদের অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।