Congress: বামফ্রন্ট, আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নয়, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। বামেদের হাত ছেড়ে একলা চলো নীত-র পথে হাত শিবির। রাজ্যে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে লড়েছে কংগ্রেস।
West Bengal Congress: বঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Legislative Assembly Election) আগে বড় খবর। আর বামফ্রন্ট, আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নয়, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। বামেদের হাত ছেড়ে একলা চলো নীত-র পথে হাত শিবির। রাজ্যে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে লড়েছে কংগ্রেস। ২০১৬ ও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ে লড়েছিল কংগ্রেস। ২০১১ বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে জোট করেছিল হাত শিবির। ২০২১ বিধানসভা ভোটে সিপিএম, আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়ে কংগ্রেস ৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু তাতে একেবারেই লাভ হয়নি অধীর চৌধুরীদের। প্রথমবার বঙ্গ বিধানসভায় প্রতিনিধিহীন হয়ে পড়ে কংগ্রেস। মালদা, মুর্শিদাবাদের মত শক্ত হাত গড়েও হাত খালি হয়ে যায় কংগ্রেসের। পশ্চিমবঙ্গে হাত চিহ্নে ভোটপ্রাপ্তির হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়। বামেদের সঙ্গে সমঝোতা করায় মুর্শিদাবাদ, মালদা, পুরুলিয়া, উত্তরবঙ্গের কিছু নিজেদের মজবুত আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি কংগ্রেস। অন্যদিকে, শূন্যতে ঠেকে যাওয়া বামেদের ভোটও কংগ্রেসের ইভিএমে প্রতিফলিত হয়নি।
২০১৬ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
তবে তার পাঁচ বছর আগে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ে লড়ে কিছুটা হলেও সুফল পেয়েছিল কংগ্রেস। ২০১৬ বিধানসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়ে কংগ্রেস ৯২টি-র মধ্যে ৪৪টি আসনে জিতেছিল। সেবার কংগ্রেসই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছিল। সেখানে সিপিএম মাত্র ২৬টি আসন, আরএসপি ৩টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ১টি আসন পেয়েছিল। চাঁপদানি থেকে জিতে বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান। বামেদের সঙ্গে জোট গড়ে লড়ে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পেরেছিল কংগ্রেস।
২০১১ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন
২০১১ সালে রাজ্যের পালাবদলের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের হাত ধরেছিল কংগ্রেস। সেবার পরিবর্তনের ভোটে কংগ্রেস ৬৬টি আসনে লড়ে ৪২টি-তে জিতেছিল। দিদির হাত ধরে দারুণ লাভবান হয়েছিল হাত শিবির। ২০০৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতার সঙ্গে জোট গড়েনি কংগ্রেস। 'হয় এবার, নয় নেভার' স্লোগান'দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ও 'ব্র্য়ান্ড বুদ্ধ'র স্লোগান তুলে লড়া বামেদের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় করে লড়ে কংগ্রেস বেশিরভাগ আসনেই লড়েছিল।
২০০৬ বিধানসভা নির্বাচন
২০০৬ বিধানসভা ভোটে সেবার কংগ্রেস জোট গড়েছিল শিবু সোরেনের জেএমএম, সঈফুদ্দিন চৌধুরীর পিডিএস, রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি, রামদাস আটওয়ালের রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া, সুভাষ ঘিসিংয়ের জেএনএলএফের সঙ্গে। চারটি আসনে নির্দল প্রার্থীদেরও সমর্থন করেছিলেন সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্যরা। সেবার ২৬২টি আসনে লড়ে ২১টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। তৃণমূল সেখানে ২৫৭টি আসনে লড়ে জিতেছিল ৩০টি-তে। তৃণমূল সেবার জোট গড়েছিল বিজেপি, জেডি (ইউ), ঝাড়খণ্ড পার্টি (নরেন)-এর সঙ্গে জোট গড়ে। সিপিএম সেবার একাই ১৭৬টি আসনে জিতেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাত ধরে তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে দুই কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়েছিল। ২০০১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টি ও কংগ্রেস ৬০টি আসনে লড়েছিল। তার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ৬০টি ও কংগ্রেস ২৬টি আসন পেয়েছিল।
১৯৯৬ বিধানসভা নির্বাচন
শেষবার কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়েছিল ১৯৯৬ বিধানসভা নির্বাচনে। তখনও মমতা কংগ্রেসেই ছিলেন। একমাত্র পাহাড়ের রাজনীতির স্বার্থে জিএনএলএফে ৩টি আসনে ছেড়ে সব কটিতে একাই লড়েছিল হাত শিবির। সেবার সোমেন মিত্রর নেতৃত্বে লড়ে কংগ্রেস ৮২টি ও জেএনএলএফ ৩টি আসনে জেতে। প্রায় তিন দশক পর আবার একা লড়ার পথে কংগ্রেস। প্রশ্ন একটাই, একলা চলো নীতিই কি ফেরাবে হাত শিবিরের হারানো জমি? শূন্য কাটবে কি?


