মৌলিককান্তি মণ্ডল, নদিয়া: লকডাউনের ফের, অভাবের তাড়নায় শেষপর্যন্ত পুড়ে মরতে হল এক নির্মাণ শ্রমিককে! গায়ে কেরোসিন তেলে ঢেলে আত্মহত্যা করলেন তিনি। শোকের ছায়া নদীয়ার নবদ্বীপে।

আরও পড়ুন: পারিবারিক বিবাদের 'মাশুল', পিসির বাড়িতে 'খুন' হয়ে গেল কিশোর

মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সাহা। বাড়ি, নবদ্বীপ শহরের প্রাচীনমায়াপুর টাওয়ার মাঠ এলাকায়। স্ত্রী ও ছয় মাসের মেয়ে-কে নিয়ে সংসার। বিশ্বজিৎ নিজে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন, আর স্ত্রী পম্পা তাঁতশিল্পী। লকডাউনে জেরে এখন কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে, রোজগারও নেই।  দিন কাটছিল চরম আর্থিক অনটনে। পরিস্থিতি এমনই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে, দু'বেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই দম্পতি। আচমকা বিপর্যয়ের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। রোজের এই অশান্তি আর সহ্য করতে পারলেন না বিশ্বজিৎ।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে স্ত্রী যখন সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ঘরে কেরোসিন তেলে ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিন বিশ্বজিৎ। ধোঁয়া দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ওই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয় নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার সকালে হাসপাতালে মারা যান বিশ্বজিৎ সাহা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক সকলেই।

আরও পড়ুন:বাংলার মেয়ে আমেরিকার মঞ্চে মাত. ব্যাড সালস্যায় ঝড় তুলছে সোনলি-সুমন্ত

করোনার আতঙ্ক, দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের দুর্ভোগ বাড়ছে আমজনতা। চলতি মাস থেকে এ রাজ্যে আনলক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের রাস্তায় নেমেছে সরকারি বাস, চলছে অটো-ট্যাক্সি, এমনকী অ্যাপ ক্য়াব। কিন্তু পরিস্থিতি কী পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে? উত্তর জানা নেই কারও। উল্টে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে। এর আগে রোজগার হারিয়ে পূর্ব বর্ধমানে কালনায় আত্মহত্যা করেছিলেন এক চা-বিক্রেতা। এবার  একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল নদিয়ার নবদ্বীপেও।