ক্ষমতায় ফিরতে মমতার চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) মতো ভাতাতে ভরসা সিপিএমেরও। আর এই ঘোষণা করেছেন খোদ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim)।

ক্ষমতায় ফিরতে মমতার চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) মতো ভাতাতে ভরসা সিপিএমেরও। আর এই ঘোষণা করেছেন খোদ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim)। তিনি বলেছেন, সিপিএম যদি বাংলায় আবার ক্ষমতায় আসে তবে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের চেয়ে বেশি টাকা দেবে। শুধু তাই নয়, টাকা কীভাবে দেওয়া হবে তাও ব্যাখ্যা করেন সেলিমবাবু। তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে কার্যত বিদ্রূপ করে তিনি একে মন ভোলানো কৌশল এবং দুর্নীতির জরিমানা বলে কটাক্ষ করেন।

রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেখানে বৃন্দা কারাতের লেখা ‘রীতা হয়ে ওঠা’ বইয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, "মেয়েদের শিক্ষার জন্য আজও লড়তে হয়। স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে অল্প বয়সে বিয়ে। অল্প বয়সে সন্তান। কুসংস্কার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। মেয়ে পাচার বেড়ে যাচ্ছে। ড্রপ আউট কমানোর জন্য স্কুল, কলেজের মেয়েদের পরিবহণ ফ্রি করা যেতে পারে।"

বেশি দিতে পারব

রাজ্য সরকারের চালু করা বিভিন্ন স্কিম বা কর্মসূচির শেষ 'শ্রী' শব্দ থাকা নিয়েও কটাক্ষ করেন সেলিম। বলেন, "সমস্ত ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প আসলে কেরলের ‘কুটুম্বশ্রী’র অনুকরণ। কেরল ২৫ বছর আগে এই পথ দেখিয়েছে। এখানে টুকলি হচ্ছে।" এরপরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে তিনি বলেন, "রান্নার খরচ বেড়েছে, আয় কমেছে। নির্বাচন পার হতে বিজেপি-তৃণমূল এসব নাম দিয়েছে। ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে একে ভাণ্ডার কেন বলছে? ভাণ্ডার তো ছিল অর্পিতার খাটের নীচে বা মন্ত্রীদের ঘরে। মহিলারা যা পাচ্ছেন, তা লুঠ করা ভাণ্ডারের যৎসামান্য জরিমানা মাত্র। বামেরা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের এর চেয়ে ঢের বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব।"

মহিলা প্রার্থী বাড়বে

ভাতার টাকা কীভাবে আসবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেলিম। তিনি বলেন, "আমরা এর থেকে অনেক বেশি দিতে পারব। কারণ, আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে পারব। কাটমানি আর দুর্নীতির টাকা বাঁচালেই কোষাগারে টান পড়বে না। তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো রাজ্যগুলি অনেক বেশি টাকা দিচ্ছে, সেখানে বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে? কিন্তু, এটা অধিকার নয়। আমরা চাই, এগুলো অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। "

আগামী ১ মার্চ থেকেই বামেরা বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নামবে বলেও জানান সেলিম। তিনি আরও জানান, এবার প্রার্থী তালিকায় গতবারের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকবে।