অনেকেই তাদের হিসেবের মধ্যে রাখছে না। কিন্তু বাম নেতারা আত্মবিশ্বাসী, এবারের ভোটে ঘুরে দাঁড়াবে লাল পতাকা। তাই তৃণমূল, বিজেপি-র দাপটে হতদ্যম না হয়ে ভোটের আগে শেষ রবিবারে প্রচারে ঝড় তুলল বামেরা। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, ছুটির দিনে যতটা সম্ভব বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলেন বাম প্রার্থীরা।

কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে রবিবার হুড খোলা জিপে চেপে প্রচার করলেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিএম প্রার্থী কনীনিকা ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। চিড়িয়া মোড় থেকে শুরু হয়ে মধ্য কলকাতার এন্টালি মার্কেটে শেষ হয় কনীনিকার প্রচার মিছিল। 

প্রচারে বিমান বসু বলেন, "বামপন্থীদের লক্ষ্য বিজেপি এবং তৃণমূলকে উৎখাত করা। দেশের মানুষ দেখেছে বামপন্থীদের সমর্থনে কেন্দ্রে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার মানে গ্রামীণ কর্মসংস্থান যোজনা প্রকল্পে গ্রামের মানুষের কাজের সুযোগ, অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা, আদিবাসী মানুষের বনাঞ্চলের অধিকার এবং বেসরকারিকরণ-বিলগ্নিকরণের শ্লথ গতি।" 

তিনি আরও বলেন, "আগামী লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের সমর্থনে কেন্দ্রে এমন একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করতে হবে, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করবে, রেশনের মাধ্যমে কম দামে খাদ্য দেবে, গরিব কৃষকের কৃষি ঋণ মুকুব করবে ও ফসলের ন্যায্য দাম দেবে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসিক ১৮০০০ টাকা ও পেনশন ৬০০০ টাকা করবে। মহিলাদের সমস্ত রকম নিরাপত্তা ও সম্মান দেবে, শহর ও গ্রামের সমস্ত বেকার যুবক যুবতীর কাজের ব্যবস্থা করবে, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সার্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা করবে, লাভজনক সংস্থার শেয়ার বিক্রি বন্ধ করবে, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম আইন বাতিল করবে, আদিবাসী মানুষের বনাঞ্চলের অধিকার রক্ষা করবে, তপশিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা দেবে।"

 

কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে এবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ রয়েছে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে। অন্যদিকে এ বারও বিজেপি-র হয়ে এই আসন থেকে লড়ছেন বিজেপি-র রাহুল সিংহ। ফলে লড়াইটা যে কতটা কঠিন, ভালই জানেন কনীনিকা. তবু তিনি আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমর্থনে মিছিল বের করা হয় যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ড থেকে। সেটি বিজয়গড় বাজার, পল্লিশ্রী মোড় হয়ে শ্রীকলোনি বাজার, আই-ব্লক ঘুরে বাঘাযতীন বাজারে এসে শেষ হয়। ডিওয়াইএফআই ও এসএফআইএর যৌথ উদ্যোগে এই মিছিল হয়। সব্যসাচী চক্রবর্তী, বাদশা মৈত্র-সহ একাধিক কলাকুশলী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী বিকাশবাবুর সমর্থনে মিছিল করেন।

যাদবপুর কেন্দ্রে দুঁদে আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বিকাশরঞ্জন তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরাও কতটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন, সেটাও দেখার।