শুরু হয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় 'আমফান'-এর দাপটএই অবস্থায় সুন্দরবন এলাকায় বাঘেদের উপরও নজরদারি করা হচ্ছেবেশ কয়েকটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছেঘূর্ণিঝড়ের সময় বসত এলাকায় বাঘ ঢুকে যাতে না পড়ে সেই দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে 

স্থলে ঢুকে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় 'আমফান'। সবচেয়ে বিপদের মুখে রয়েছে বাংলার উপকূলীয় জেলাগুলি। ঝড়ের দাপট চলাকলীন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুন্দরবন এলাকায় বাঘেদের চলাচলের উপর নজরদারির জন্য বন বিভাগ বেশ কয়েকটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে কোনওভাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগাররা যাতে বসত এলাকায় ঢুকে না পড়ে তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সুন্দরবনের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিনহা জানিয়েছেন, ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ২৪ ঘন্টাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বন বিভাগ থেকে গোসাবা এলাকায় একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। বিধাননগরে বন বিভাগের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে গোসাবার ওই অস্থায়ী ইউনিটটির যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এইভাবেই বন্যপ্রাণীদের উপর নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রবিকান্ত সিনহা আরও জানিয়েছেন, যদি কোনও বাঘ সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে সংলগ্ন এলাকার গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে, তবে এই দুই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তা লক্ষ্য করা যাবে এবং বনবিভাগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলগুলি ওই বন্যপ্রাণীটিকে তার আবাসে ফেরত পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলগুলিকে, ঘুমপাড়ানি গুলির বন্দুক, জাল এবং স্পিড বোট দিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সজনেখালি এবং ঝাড়খালি অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনে এখন বাঘের সংখ্যা এখন ৯৬। এর মধ্যে মূল সংরক্ষিত এলাকায় থাকে ৭৩টি এবং সংলগ্ন অংশে থাকে ২৩টি। এই ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলে বাঘের শিকারের ঘাটতি পড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেবে বন বিভাগ।

বাঘেদের উপর নজরদারির সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ থেকে গোসাবা, দয়াপুর, বালিদ্বীপ, সজনেখালি, পাখিরালয় ও আরও কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়কে বন বিভাগের কর্মীরা বার বার করে এই ঝড়ের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কাঁকড়া, চিংড়ি বা মধু সংগ্রহ করতে যাঁরা বাঘেদের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন, তাদের এই কয়েকটা দিন বনে না যাওয়ার জন্য বারবার করে মাইক্রোফোনে সাবধান করা হয়েছে।