আয়লার মতোই বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কাঁটা হয়েছিল গোটা সুন্দরবন। সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন প্রশাসনিক কর্তারাও। কারণ আয়লা আর বুলবুলের গতিও কাছাকাছি ছিল। কিন্তু তার পরেও আয়লার মতো সুন্দরবনের ক্ষতি করতে পারল না বুলবুল। কারণ হিসেবে উঠে আসছে বুলবুলের আছড়ে পড়ার সময়। 

২০০৯ সালে সুন্দরবন এলাকায় আছড়ে পড়েছিল বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আয়লা। সেই ক্ষত আজও বহন করে চলেছে সুন্দরবন। জলস্ফীতি ঘটে বাঁধ ভেঙে নদীর জল ঢুকে ভেসে গিয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম। সুন্দরবনের গ্রামে গ্রামে নোনা জল ঢুকে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল চাষের জমি, মিষ্টি জলের পুকুর। বুলবুল নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কায় ভুগছিলেন সুন্দরবনের বাসিন্দারা। বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল গ্রামগুলি। কারণ বুলবুলের জেরে ২ মিটার পর্যন্ত জলস্ফীতির আশঙ্কা ছিল সুন্দরবন এলাকায়। 

শেষ পর্যন্ত অবশ্য কাঁচা বাড়ি ভেঙে, গাছ উপরেই সুন্দরবনকে রেহাই দিয়েছে বুলবুল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বুলবুলও আয়লার মতোই শক্তিশালী হলেও শনিবার এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার সময় নদীতে ভাটা চলছিল। সেই কারণে নদীগুলিতে খুব বেশি জলস্ফীতি ঘটেনি। তাই বাঁধগুলিও অক্ষত ছিল। দু' এক জায়গায় বাঁধে অল্প বিস্তর ক্ষতি হলেও কোনও জায়গাতেই আয়লার মতো বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকে যায়নি। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে সন্ধ্যে সাতটা- সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জোয়ার ছিল। বুলবুলের তাণ্ডব শুরু হয় আটটার পর থেকে। ফলে বুলবুলের জেরেই দশ বছর আগের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি সুন্দরবনে। 

এমনিতে বুলবুল ঝড়েও সুন্দরবনের বাসিন্দাদের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। বিশেষ করে কাঁচাবাড়ি, গাছপালার প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় গাছপালা, ঘরবাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে গবাদিপশুর। সুন্দরবন এলাকায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোসাবা ও বাসন্তী ব্লক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুলতলি ব্লকের বেশ খানিকটা অংশ। এছাড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা- সহ বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বুলবুলের দাপটে।

ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন গোসাবার লাহিড়িপাড়ায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয় বলে খবর। মৃতার নাম কমলা মণ্ডল (৬২)। ঝড় চলাকালীন রাস্তায় মারা গিয়ে তিনি মারা যান বলে জানা গিয়েছে।