বছর কাটতে না কাটতেই উসকে উঠেছে সাইক্লোন আমফান-এর ভয়ঙ্কর স্মৃতি। ধেয়ে আসছে আরেক ঘূর্ণিঝড় 'যশ' (Cyclone Yaas)। সরাসরি হলদিয়ার দিকে ধেয়ে না এলেও, যশ-এর আগমন কে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এই শিল্প নগরে। হলদিয়ার মানুষকে আসন্ন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৈরি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ মে রাজ্যে আছড়ে পড়বে ঘুর্ণিঝড় যশ।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম তরঙ্গের মধ্যেই রাজ্যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আমফান। সেই সাইক্লোনের ল্যান্ডফল হয়েছিল হলদিয়াতেই। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল শিল্পনগরীর। এবার, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে এনডিআরএফ-এর সদস্যরা। সোমবার সকালেই এনডিআরএফ-এর দল পৌঁছে যায় হলদিয়ায়। বসে না থেকে এদিন থেকেই তারা মক ড্রিল শুরু করে দিয়েছে। NDRF বাহিনীর টীম কমান্ডার ভানবর সিং জানিয়েছেন, এই দুর্যোগের মোকাবিলা করতে তাঁরা সম্পূর্ণ রূপে তৈরি। তাদের পক্ষ থেকে জায়গায় জায়গায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উপকূলবর্তী সমস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

এদিকে, বসে নেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। আমফান পরবর্তী সময়ে ত্রাণ সামগ্রী চুরির কালি লেগেছিল শাসক দলের গায়ে। এবার অবশ্য অন্য ছবি দেখা যাচ্ছে। এলাকার মানুষকে উদ্ধার ও তাদের ত্রাণ বিলি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। হলদিয়া পৌরসভার সতেরো নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আজগর আলির নেতৃত্বে এদিন প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে একটি বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা দলও তৈরি করা হয়েছে। গামবুট, রেইনকোট, হেলমেটট, টর্চ - উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয়য় সমস্ত সরঞ্জামই থাকছে তাদের হাতে।  

আজগর আলি জানিয়েছেন, কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবেন তাঁরা। এই বিপর্যয়ের মোকাবিলার জন্য ইতিমধ্যেই পানীয় জল, শুকনো খাবার, ওষুধ -এর মতো বিভিন্ন জিনিস তারা সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেখানে যেখানে এনডিআরএফফ বাহিনী উদ্ধারকাজ করতে পারবে না,, সেখানে তারা উদ্ধারের কাজে হাত লাগাবেন। আর উদ্ধার হওয়া মানুষদের যত্নআত্তিও তাঁরাই করবেন। মানুষের প্রাণ রক্ষাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।