DA West Bengal Update: বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দিতে উদ্যোগী নবান্ন। চলতি সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য অর্থ দফতর। সেই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের পুরনো বকেয়া ডিএর হিসাবে আপলোড করতে শুরু করেছেন। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএর হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে।
DA West Bengal Update: বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দিতে উদ্যোগী নবান্ন। চলতি সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য অর্থ দফতর। সেই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের পুরনো বকেয়া ডিএর হিসাবে আপলোড করতে শুরু করেছেন। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএর হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা প্রথম কিস্তির ডিএ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার ৩১ মার্চ অর্থবর্ষের শেষ দিনে ডিএর প্রথম কিস্তি মেটানোর কথা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আগে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) চালুর কথা বলা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে এখনও তেমন কিছু প্রকাশ করা হয়নি নবান্নের তরফে।
চলতি মার্চ মাস থেকে বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একবারে নয়, বরং কয়েকটি পর্যায়ে সরকারি কর্মীদের দেওয়া হবে। প্রথমে দেওয়া হবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ। তার অর্ধেক মিলবে চলতি মার্চ মাসেই। আর বাকিটা সেপ্টেম্বরে। প্রত্যেক কর্মীর মহার্ঘ ভাতা নির্ভর করে তাঁদের বেতনের বেসিকের উপর। পঞ্চম বেতন কমিশনের ‘স্কেল ১’-এর ৬ হাজার ৬০০ টাকার বেসিকের উপর দু’টি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে বেসিক ধরা হচ্ছে ৭ হাজার। সে ক্ষেত্রে এই স্ল্যাবে আসা প্রত্যেক আধিকারিকের এই পাঁচ বছরে বকেয়া ডিএ পাওনা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে মার্চ মাসেই তাঁরা অন্তত ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা পাবেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ’র ফারাক ধরে হিসাব কষা হয়েছে। যদি কারও ৭ হাজার টাকা বেসিক হয়, তাঁর ১০ বছরের মোট বকেয়া ডিএ হবে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৯০ টাকা। ১০ হাজার টাকা হলে বকেয়া ডিএ হবে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৪০ টাকা। আর ১৫ হাজারের হিসাবে ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০ টাকা।
গ্রুপ এ, বি এবং সি, এই তিন শ্রেণির কর্মীদের বকেয়া ডিএ সরাসরি জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া অর্থ সরাসরি নগদে তাঁদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বকেয়া অর্থের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জমা হওয়া এই টাকা ক্রেডিট হওয়ার ২৪ মাস পর্যন্ত তোলা যাবে না। তবে কর্মীর অবসর, মৃত্যু বা পদত্যাগের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা শিথিলযোগ্য। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বা তাঁর পরিবার টাকা তুলতে পারবেন। পেনশনারদের এই বকেয়া ডিএ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। যারা কলকাতা এলাকার বাইরে ট্রেজ়ারি থেকে পেনশন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে পেনশন মডিউলের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। যারা কলকাতার ব্যাঙ্ক বা ভিনরাজ্য থেকে পেনশন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট অথারিটি দিয়ে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে।। এ ছাড়া, ২০১৬-২০১৯ সময়ের মধ্যে যাঁরা চাকরিতে ছিলেন কিন্তু পরে পদত্যাগ করেছেন বা মারা গিয়েছেন, তাঁদের বকেয়াও দেওয়া হবে। মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের মনোনীত উত্তরসূরি বা আইনি উত্তরাধিকারী এই টাকা পাবেন।


