পাহাড়ে পর্যটকদের যানজটের সমস্যা কমাতে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। পরিষেবা চালু হলে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার দিন এবার হয়তো শেষ হতে চলেছে। পর্যটকদের জন্য আসতে চলেছে কার্শিয়াং-দার্জিলিং রোপওয়ে। এই পরিষেবা চালু হলে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং শহরে পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের মধ্যে যানজট বর্তমানে অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে পর্যটন মরশুমে ঘুম পেরিয়ে দার্জিলিং শহরের দিকে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের। মাত্র ৩২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই অনেক সময় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়।
প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, গত মে মাসে শিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে দার্জিলিং পৌঁছতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লেগেছিল। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত প্রায় দু’ঘণ্টায় পৌঁছনো গেলেও কার্শিয়াংয়ের পর যানজটের কারণে বাকি পথ যেতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলাতেই রোপওয়ে প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হল বিকল্প রাস্তার অভাব। এই দুই এলাকার মধ্যে মূলত ‘হিল কার্ট রোড’ অর্থাৎ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরেই বিপুল গাড়ির চাপ পড়ে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের মধ্যে হিল কার্ট রোডের পাশাপাশি রোহিণী রোড এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড—এই তিনটি রাস্তা রয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত যান চলাচলে তুলনামূলকভাবে সমস্যা কম।
কিন্তু কার্শিয়াংয়ের পর দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নতুন রাস্তা তৈরি করাও সহজ নয়। ফলে সড়কপথে কার্শিয়াং পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে রোপওয়ের মাধ্যমে দার্জিলিং পৌঁছনোর পরিকল্পনাকেই কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত রোপওয়েতে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ের মধ্যে চার থেকে পাঁচটি স্টেশন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিষেবা চালু হলে পর্যটকরা দ্রুত দার্জিলিং পৌঁছতে পারবেন। এর ফলে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ির চাপও অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
শুধু পর্যটকদের যাতায়াত নয়, রাতের সময়ে রোপওয়ের মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। খাদ্যশস্য, শাকসবজি-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজে রোপওয়ে ব্যবহার করা হতে পারে। বর্তমানে ট্রাকের মাধ্যমে এই সমস্ত পণ্য পাঠানো হয়। যানজটের কারণে সেই প্রক্রিয়ায় যেমন সময় বেশি লাগে, তেমনই পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ির চাপও বাড়ে।
তবে এখনও পুরো বিষয়টিই প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি কোনও বড় শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। রোপওয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে কালিম্পং ও গ্যাংটককেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পর্যটকদের যাতায়াতের সময়ই কমবে না, দার্জিলিংয়ের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যারও অনেকটাই সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
