জানা গেছে,এই মন্দিরে আগে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ডাকাতরা কালী মাতার পুজো করে ডাকাতি করতে যেতেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় গোবরজর্নার কালীমাতার পুজো। তারপর থেকেই চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা রীতিনীতি মেনে করে আসছেন কালীপূজো।

মালদহের রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের গোবর্জনা কালী মাতা ঠাকুরানি মন্দির। এই মন্দির প্রায় কয়েক হাজার বছরের পুরনো মন্দির। এখানেই হয় কয়েক হাজার বছরের পুরনো কালীপুজো। ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রথা মেনে ধুমধাম করে আজও হয়ে আসছে সেই পুজো। কথিত আছে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দেবী চৌধুরানী। এক সময় ডাকাতরা ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এখানে পূজো দিয়ে যেত। নদী পার্শ্ববর্তী জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় খড় দিয়ে তৈরি মন্দিরে হতো পুজো। বদলেছে সময়। খরস্রোতা নদী এখন শান্ত। জঙ্গলকীর্ণ এলাকা এখন জনবহুল। শুধু বদলায়নি মা কালীর পুজোর প্রথা। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গেছে,এই মন্দিরে আগে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ডাকাতরা কালী মাতার পুজো করে ডাকাতি করতে যেতেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় গোবরজর্নার কালীমাতার পুজো। তারপর থেকেই চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা রীতিনীতি মেনে করে আসছেন কালীপূজো। আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বর্তমানে জোর কদমে চলছে মন্দিরের প্রস্তুতি। আরো জানা গেছে, এই কালীমন্দিরে প্রত্যেক শনিবার ও মঙ্গলবার দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মায়ের পুজো দিতে। 

শুধু হিন্দু সম্প্রদায় মানুষ নয়, মুসলিমরাও এখানে এসে পূজো দেয়। পুজোর দিন থেকে শুরু হয় মেলা। আগামী দুই বছর কোরনার কালো দাপটে ভক্তদের সমাগম ছিল খুবই কম। এবার পরিস্থিতি অনেক ভালো। তাই মন্দির কমিটি আশা করছে এবছর কয়েক হাজার ভক্তদের সমাগম হবে। এই মন্দিরে পাঁঠা বলির রেওয়াজ রয়েছে। প্রায় কয়েক হাজার পাঁঠা বলি হয় বলে জানা গেছে। এ মুহূর্তে মন্দিরে চলছে জোরদার প্রস্তুতি।

পুজোর দায়িত্বে থাকা চৌধুরী পরিবারের শ্যামাপদ চৌধুরী বলেন, কয়েক হাজার বছরের পুরনো মন্দির। সম্পূর্ণ ইতিহাস আমাদের পূর্বপুরুষেরা জানতেন আমরা হয়তো পুরোটা জানি না। তবে দেবী চৌধুরানীর সঙ্গে জড়িত আছে এই মন্দির। আগেকার দিনে ডাকাতেরা এই মন্দিরে এসে পূজো দিত। বহু বছর ধরেই ধুমধাম করে হয় পুজো। শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ নয় আশেপাশের রাজ্য থেকেও বহু মানুষ আছে পুজো দেওয়ার জন্য।

বাংলার ইতিহাস এবং বাংলার বিভিন্ন সাহিত্যে আমরা বিভিন্ন কালীপূজার ইতিহাস পড়েছি। সে ইতিহাস যেমন ঐতিহ্যমন্ডিত তেমন রোমাঞ্চকর। সারা বাংলা জুড়েই কালীপুজোর বহু পুরনো ইতিহাস রয়েছে। সে রকম বেশ কিছু ঐতিহাসিক কালীপুজো আজও বর্তমান। তার মধ্যে একটি হলো এই কালীপুজো।