অহিংস কর্মসূচির  মাঝেই রইল সংঘাতের বার্তা। গান্ধী সংকল্প যাত্রায় নেমে সরাসরি দিদিকে আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন,দুর্নীতিবাজ বলেই দিদিকে বলোয় অংশ নিচ্ছেন না ভাইয়েরা। বার বার ডেকেও পাচ্ছেন না বলেই ওদের ফাঁকিবাজ বলছেন মুখ্য়মন্ত্রী। 

পুজো মিটতেই ফের সম্মুখ সমরে বিজেপি-তৃণমূল। ১৫ তারিখ থেকে গান্ধীজির সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সংকল্প যাত্রায় নেমেছে বিজেপি। যার পাল্টা ১৯ অক্টোবর থেকে বিজয়া সম্প্রীতি যাত্রার ঘোষণা করেছে তৃণমূল। শাসক দলের তরফে জানানো হয়েছে,দিদিকে বলোর বিশাল সাফল্য়ের পর ফের একবার দিদিকে বলো কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ কালীঘাটের নেত্রী। দিদিকে বলোয় অংশ না নিলে দলের ফাঁকিবাজ নেতাদের ছেটে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।  এদিন সেই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। দিলীপবাবু বলেন, দিদিকে বলোয় অংশ নিতে এলেই সাধারণ মানুষ তৃণমূলের নেতাদের কাছে কাটমানি ফেরত চাইবেন। তাই ভয়ে তাঁরা আর কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসছেন না। দিদি হাজার বার ডাকলেও ওই নেতারা দিদিকে বলোতে যাবেন না । কারণ সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো মুখ তাঁদের নেই। 

এই বলেই অবশ্য থেমে থকেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। দিলীপবাবু বলেন,রাজ্যে সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস এক সঙ্গে হলেও বিজেপিকে আর রোখা যাবে না। কারণ একজনের পা ভেঙেছে একজনের কোমর ভেঙেছে। সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই ভোট বাক্সে ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার গান্ধীজির ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫০ কিলোমিটার সংকল্প যাত্রার কর্মসূচি শুরু করল রাজ্য বিজেপি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীর কর্ণগড় মন্দিরে পুজো দিয়ে এই সংকল্প যাত্রার সূচনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপরে  শালবনীর ভাদুতলাতে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে পথসভা করেন দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সেখানে গান্ধীজির জীবনযাত্রা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন দিলীপবাবু। পরে  প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্মের বর্ণনা দেন সকলের উদ্দেশ্যে। 

পরে আনুষ্ঠানিক এই পদযাত্রার রওনা দেয় খড়্গপুরের মাতকাতপুরের উদ্দেশ্যে। তবে তার আগে মেদিনীপুর শহরে গান্ধী মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দিলীপ ঘোষ ও জেলা সভাপতি সমিত দাস ও অন্যান্যরা। প্রথম দিনে ১৫ কিলোমিটার এই পদযাত্রায় অংশ নেয় কয়েকশো বিজেপি কর্মী। মাতকাতপুরে প্রথম দিনের পদযাত্রা শেষ করে আগামী দশ দিন বাকি প্রতিদিন ১৫ কিমি করে পরে যাত্রা করবে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে যাবে এই গান্ধীর সংকল্প যাত্রা। এই পদযাত্রা থেকে হিংসা মুক্ত রাজনীতির ,বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক বর্জনের সামাজিক বার্তা দেবে বিজেপি ব্রিগেড।