১৫ অগাস্টের দিন খানাকুলে নিহত বিজেপির কর্মীর বাড়িতে গেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দুষ্কৃতীদের হামলায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্বাধীনতা দিবসে পতাকা লাগানো ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল হুগলির খানাকুলের নতিবপুরের সাজুরঘাট এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দুষ্কৃতীদের হামলায় মৃত্যু হল বিজেপি কর্মী সুদর্শন প্রামাণিকের। ঘটনায় হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

রবিবার নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। এরপর, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, হিংসার জায়গা আরামবাগ। রাজনৈতিকভাবে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই এলাকা। তাঁর অভিযোগ, গত ৪০ বছর ধরে গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দিতে পারেননি আরামবাাগের মানুষ। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে প্রথমবার শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা। এখন এলাকার মানুষ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাইছে, তখন এলাকায় হিংসার রাজনীতি করছে করছে তৃণমূল। মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেন দিলীপ ঘোষ।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, খানাকুলে নিহতকর্মীর বাড়িতে গিয়ে কুমিরের কান্না গাইছেন দিলীপ ঘোষ। নিজেদের পাপ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষের কাছে বিজেপির ঘৃণার রাজনীতি জলের মতো পরিষ্কার বলে দাবি করেন তৃণমূল জেলা সভাপতি।

নিহত দলীয়কর্মীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, আমাদের কর্মী সুদর্শন প্রামানিককে যারা খুন করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। যদিও, পুলিশ প্রশাসনের উপর বিজেপির কোনও আস্থা নেই বলে অভিযোগ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর আরও অভিযোগ, একটা পরিবারকে ছয়বার খুনের হুমকি দিয়েছিল তৃণমুল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এলাকার দখলের জন্য তৃণমূল পরিকল্পনা করেই সুদর্শন প্রামাণিককে খুন করেছে বলেও অভিযোগ করেন দিলীপ ঘোষ। এদিন নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেন তিনি।