নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ইন্ডিয়া জোটের অভিযান নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বিরোধীদের এই রাজনীতি আসলে মিথ্যা ও প্রতারণার। আপের মতোই ইন্ডিয়া জোটও নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
বিরোধীদের 'মিথ্যার রাজনীতি' নিয়ে সরব দিলীপ
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের কড়া সমালোচনা করেছেন। নির্বাচন সদনে (নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর) বিরোধীদের প্রস্তাবিত অভিযান নিয়ে তিনি মুখ খোলেন। দিলীপের কথায়, সাধারণ মানুষ বিরোধীদের এই "মিথ্যা, প্রতারণা এবং দুর্নীতির" রাজনীতি আর চাইছে না। ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে আম আদমি পার্টির (আপ) তুলনা টেনে তিনি বলেন, দুটো দলই একই রকমভাবে তৈরি হয়েছিল। আর এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "ইন্ডিয়া জোট থেকে অনেকেই সরে যাচ্ছেন। আম আদমি পার্টিও ঠিক এভাবেই তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এখন তাদের গুরুত্ব কমছে। বিরোধীরা যে ধরনের রাজনীতি করছে, তা মানুষ পছন্দ করছে না। এদের রাজনীতিতে শুধু মিথ্যা, দুর্নীতি আর ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। মানুষ এখন উন্নয়ন, শান্তি আর দেশের অগ্রগতি চায়।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর মানুষের যে অগাধ আস্থা রয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন দিলীপ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, "আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি মানুষ নিজেদের জীবনে একটা স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করছেন। আর সেই কারণেই মানুষ মোদীজি এবং তাঁর নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধীরা নিজেদের মতো নাটক চালিয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।"
নির্বাচন কমিশনে ইন্ডিয়া জোটের অভিযান
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করার কথা বিরোধী নেতা ও সাংসদদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবিতেই মূলত এই প্রতিবাদ।
ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব বিরোধীরা। তারা গোটা প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা দাবি করছে। ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের নেতারা এই মিছিলে অংশ নেবেন এবং কমিশনের কাছে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন বলে খবর।
বিরোধীদের ঘোষিত "গণতন্ত্র বাঁচাও" কর্মসূচিরই একটা অংশ হল এই প্রতিবাদ। এই কর্মসূচির অধীনে বিরোধী নেতারা কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ ও জনসভা করছেন। নির্বাচন সদন অভিযানকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, সব বিরোধী দলের সাংসদরা সকাল ১১টায় সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় মকর দ্বারে সাংসদদের জড়ো হতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, "আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের সব দল জেলা স্তরে পদযাত্রা করবে। বিক্ষোভ ও সভাও করা হবে।"
তবে আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, তাঁর দল এই মিছিলে অংশ নেবে না। তিনি বলেন, "আগামীকালের এই বিক্ষোভ ইন্ডিয়া জোটের তরফ থেকে আয়োজন করা হয়েছে। আম আদমি পার্টি এর অংশ নয়। তবে আমরা আমাদের মতো করে এই লড়াই চালিয়ে যাব।"
নেতাদের নির্দিষ্ট অভিযোগ
এক্স (X) হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী লেখেন, "এটা এখন স্পষ্ট যে জ্ঞানেশ কুমার বেআইনিভাবে এবং একতরফাভাবে ৬ নম্বর ফর্ম পরিবর্তন করেছেন। বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য তিনি যে নিজের পদের অপব্যবহার করছেন, এটা তারই আরও একটা প্রমাণ। আমাদের গণতন্ত্রের ওপর এই অপরাধমূলক হামলার সঙ্গে তিনি এবং অন্য যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।" নিজের দাবির সপক্ষে তিনি নির্বাচন কমিশনের একটি পুরনো প্রেস বিজ্ঞপ্তির ছবিও শেয়ার করেন।
একটি সাংবাদিক বৈঠকে কে সি বেণুগোপাল আগামী ১০ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে "ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও" কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "মাননীয় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীজিও আমাদের নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই আন্দোলন কাল বা পরশুই শেষ হয়ে যাবে না। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো এবং গোটা ব্যবস্থা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এই আক্রমণাত্মক প্রচার টানা চলবে।"
নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে বেণুগোপাল আরও বলেন, “আপনারা জানেন যে নির্বাচন কমিশন এখন 'চিটিং কমিশন অফ ইন্ডিয়া' হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এবং বিরোধী দলগুলোর এত পর্যবেক্ষণের পর, এমনকী দুজন কমিশনারের মন্তব্যের পরেও তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।”


