পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী এবং প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। রাজ্যে চলমান বিভিন্ন বিক্ষোভের জন্য তিনি রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদেরই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "এরা সমাজবিরোধী। বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম ফাটিয়ে দিন। ওদের উচিত শিক্ষা দিন। অপরাধী এবং যারা অপরাধকে সমর্থন করে—উভয়ের সঙ্গেই একই রকম আচরণ করুন।"
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী এবং প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। রাজ্যে চলমান বিভিন্ন বিক্ষোভের জন্য তিনি রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদেরই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "এরা সমাজবিরোধী। বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম ফাটিয়ে দিন। ওদের উচিত শিক্ষা দিন। অপরাধী এবং যারা অপরাধকে সমর্থন করে—উভয়ের সঙ্গেই একই রকম আচরণ করুন।"

সমস্যার মূলে কমিউনিস্ট ও বুদ্ধিজীবীরা
রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, "সমাজে অপরাধ বাড়ার জন্য সবসময়ই কমিউনিস্ট ও বুদ্ধিজীবীরা দায়ী। তারা নিজেদের সম্মান বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে দিতে চায় না। যখন কোনও অপরাধ ঘটে তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়, আবার যখন অপরাধীর শাস্তি হয়, তখনও সেই শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়।" দিলীপের আরও যোগ, “ডিম এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। এদের বুঝিয়ে দিন। অপরাধী এবং অপরাধের পাশে দাঁড়ানো এই সব মানুষকে সমান ট্রিটমেন্ট দিন।”
ডিম ছোঁড়ার বিপক্ষে বিজেপি
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের ডিম ছোঁড়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিজেপি এই সংস্কৃতিকে সমর্থন করে না। তা সত্ত্বেও, তৃণমূল স্তরের বিজেপি কর্মীরা তাঁর কথা শুনছেন না, যা নিত্যদিনের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। তবে দিলীপের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, তাঁর মতামত শমীকের চেয়ে আলাদা।
ডিম থেরাপি কী?
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রতি এই প্রবণতাটি দেখা যাচ্ছে। দুর্নীতি, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ বা সরকারি প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার মতো ক্ষোভ থেকে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের দিকে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলার এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্ট-এ জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আদালত এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
বারুইপুর মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে এক অভিযুক্ত নিহত হওয়ার ঘটনায় দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার বলেছেন যে রাজ্যের পুলিশ এখন থেকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, আসাম এবং মধ্যপ্রদেশের বাহিনীর মতোই পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা পাবে। তিনি বলেন, "গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, আসাম এবং মধ্যপ্রদেশের মতোই এখানকার পুলিশেরও পদক্ষেপ নেওয়ার একই স্বাধীনতা রয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
