দিপিকা সরকার, দুর্গাপুর: ভাষার নাম বাংলা, আবার রাজ্যের নামও বাংলা করার জন্য বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বাংলা-ই আবার মদের নাম হিসেবেও বহুপ্রচলিত। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ সেভাবে মাথা না ঘামালেও এবার মদের নাম হিসেবে বাংলার ব্যবহারে আপত্তি জানালেন দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি। দিলীপবাবুর প্রতিবাদেই বাংলার বদলে দেশি শব্দটি লিখতে বাধ্য হল দুর্গাপুরের একটি পানশালা।  বৃহস্পতিবার দুপুরে এমনই ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে কোকওভেন এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মদের দোকান ও পানশালার বাইরে বিজ্ঞাপন দেখেই ক্ষুব্ধ হন মেয়র। সেখানে লেখা ছিল 'বাংলা পাওয়া যায়'। ক্ষুব্ধ মেয়র সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে ওই পানশালায় হানা দেন। বাংলা নামে কোনও মদ আছে কি না, দোকানের কর্মীদের কাছে জানতে চান তিনি। তখন দোকানের মালিক এবং কর্মীরাই তাঁকে জানান, দেশি মদকে বোঝাতেই 'বাংলা' শব্দটি লেখা হয়েছে। কারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেশি মদ বাংলা নামেও পরিচিত। এই যুক্তি মানতে চাননি মেয়র। তিনি স্পষ্ট জানান, যে মদের যা নাম, সেটাই লিখতে হবে। মদের নাম হিসেবে 'বাংলা' শব্দের ব্যবহার করা যাবে না। 

মেয়রের নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি রং দিয়ে বাংলা শব্দটি ঢেকে দেন দোকানের কর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গেই বাংলা শব্দটি মুছে তার জায়গায় দেশি শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। ওই মদের দোকান ও পানশালার মালিক কেদারনাথ শর্মা স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে অবাঙালি। তাই বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। 

দিলীপবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'ওই মদের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমি বিষয়টি খেয়াল করি। মদের নাম হিসেবে কেন বাংলা শব্দটি ব্যবহরা করা হবে? এটা শুধু বাংলা ভাষা নয়, বাঙালি জাতিরও অপমান। আমি এর প্রতিবাদই জানিয়েছি। 

স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিস পান্ডে বলেন, 'মদের নাম হিসেবে বাংলার ব্যবহার বহু প্রচলিত। কিন্তু এটাও ঠিক, এ নিয়ে হাসি, ঠাট্টা কম হয়নি। যা বাঙালির পক্ষ বেশ অবমাননাকর। এক্ষেত্রে যে পুরপ্রধান বিষয়টি দেখে এগিয়ে এসেছেন, তাতে আমরা খুব খুশি।