মাত্র পাঁচ মিনিটে তিনটি খুন। মুর্শিদাবাদের স্কুল শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল এবং তাঁর স্ত্রী- পুত্রের খুনের ঘটনায় পুলিশের এমন দাবি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে একা হাতে সে তিনজনকে খুন করেছিল, বুধবার গভীর রাতে পুলিশকে তা হাতেকলমে দেখাল মুর্শিদাবাদ হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত উৎপল বেহরা। বুধবার গভীর রাতে বৃষ্টির মধ্যেই ধৃত উৎপলকে নিহত শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। 

উৎপলকে গ্রেফতার করার প্রায় আট দিন পর ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই অত্যন্ত চুপিসারে বুধবার গভীর রাতে উৎপলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুনর্নির্মাণের কথা স্বীকার করে নিয়ে পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বলেন, 'খুব কম সময়ের মধ্যে কি ভাবে শিক্ষক পরিবার কে খুন করা হয়েছিল তা নিখুঁত ভাবে দেখিয়েছে উৎপল।'

আরও পড়ুন- নিজের ফাঁসি চাইছে উৎপল, তদন্ত নিয়ে নিহতদের পরিবারকে আশ্বাস মমতার

আরও পড়ুন- জিয়াগঞ্জে পাঁচ মিনিটে তিন খুন, পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তথাগতর

বিজয়া দশমীর দিন জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানে বন্ধুপ্রকাশ পালের বাড়িতে এসে ওই শিক্ষক, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং ছ' বছরের ছেলে নৃশংসভাবে হত্যা করে সাগরদিঘির বাসিন্দা উৎপল বেহরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই একাই তিনজনকে খুন করে পালিয়েছিল উৎপল। পুলিশের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ও। তদন্তকারীরা অবশ্য নিজেদের দাবিতেই অনড় ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে কীভাবে সে পর পর তিনজনকে খুন করে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পুলিশকে দেয় উৎপল। কোন পথে সে বাড়িতে ঢুকেছিল, ওই পরিবারকে শেষ করে কোথা দিয়ে সে পালিয়ে গিয়েছিল, তার সবই পুলিশকে দেখিয়ে দেয় উৎপল। 

মুর্শিদাবাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা রাজ্য তো বটেই, দেশেও শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। নিহত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিজে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যথাযথ তদন্তের আশ্বাসও দেন তিনি। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে চাপ রয়েছে পুলিশের উপরেও। ভিড় এড়াতে তাই বৃষ্টির মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উৎপলকে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। গাড়ির আওয়াজ পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত স্কুল শিক্ষকের বাড়ির কাছে জড়ো হলেও, তাঁদের উৎপলের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ।

গ্রেফতারির পরে উৎপলের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় প্রথমদিকে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল ধৃত যুবক। কিন্তু কয়েকদিন যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে নরম হয় সে। নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি নিজের শাস্তিও চেয়েছে সে।