রাজ্যত্ব নেই তো কী হয়েছে! মেজাজটাই তো  আসল রাজা! সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও ঘোড়ায় চেপে পথ-ঘাটে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়ান জামাল শেখ। এমনকী, রাত-বিরেতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, ঘোড়ায় চাপিয়ে তাঁকে হাসপাতালেও পৌঁছে দেন তিনি।

পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের রাজাখাঁড়া গ্রামে বাড়ি জামাল শেখের। বয়স সত্তর পেরিয়ে গিয়েছে। স্ত্রী প্রয়াত,  তিন ছেলে, বউমা ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভরা সংসার।  কিন্তু ঘোড়ার চড়ার শখ এখনও মেটেনি ওই বৃদ্ধের।  বাড়ির যেকোনও কাজ, এমনকী, অন্য জেলায় আত্মীয়দের বাড়িতেও যান ঘোড়ায় চেপেই। বাস কিংবা ট্রেনে চড়েন না বলেই চলে।  আবার রাত-বিরেতে যদি গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর বাড়িতে ঘোড়া নিয়ে হাজির হয়ে যান জামাল। অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার দরকার পড়ে না, ঘোড়ায় চাপিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনি। রাজখাঁড়া গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, জামাল শেখের চালচলন একেবারে রাজার মতোই। রাস্তায় দিয়ে যখন ঘোড়া ছুটিয়ে যান, তখন ওই বৃদ্ধকে বাদশা বলেই মনে হয়।

একসময় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে কিংবা যুদ্ধের সময় ঘোড়াই ব্যবহার করতেন রাজা-বাদশারা। কিন্তু সে তো বহু যুগ আগের কথা। কিন্তু জামাল শেখের হঠাৎ এমন ঘোড়ার চড়ার শখ হল কেন?  ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, তখন তিনি খুব ছোট, নেহাতই বালক।  ঘোড়ায় চেপে তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন এক আত্মীয়। সেই আত্মীয়কে দেখেই ঘোড়া চাপার শখ জাগে তাঁরও।  ঘোড়ায় চড়া শিখেও নেন। কিন্তু অভাবে সংসারে ঘোড়া কেনার পয়সা কোথায়! বিস্কুট কারখানায় চাকরি নেন জামাল। শখ মেটানোর জন্য সংসার খরচ বাঁচিয়ে একটু একটু করে টাকা জমানোও শুরু করে দেন তিনি।  বছর কুড়ি আগে সেই জমানো টাকা দিয়েই একটি ঘোড়া কেনেন জামাল শেখ। নাম রাখেন রাজা।  সেই শুরু, আজও ঘোড়ার চড়া নেশা ছাড়তে পারেননি তিনি। 

এদিকে ধীরে ধীরে সংসারের আর্থিক স্বাচ্ছল্য এসেছে।  প্রথম যে ঘোড়াটি কিনেছিলেন, সেই ঘোড়া একদিন মারা যায়। ফের একটি  ঘোড়া কেনেন জামাল। সেই ঘোড়াই এখন সর্বক্ষণের সঙ্গী তাঁর।  স্রেফ নিজে চড়াই নয়, যতদিন বাঁচবেন, ততদিন ঘোড়ায় চেপে সাধারণ মানুষকে অ্যাম্বুলান্স পরিষেবাও দিতে যান জামাল শেখ।