বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'আতঙ্কিত'। তাঁর আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মেনে নিয়েছেন যে ১.২০ কোটি নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল। 

হাতে আর মাত্র একদিন। তারপরই রাজ্যে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগেই রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ রীতিমত তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ভোটার তালিকা নিয়ে রীতিমত চাপে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মমতার সমালোচনায় দিলীপ

নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার সমালোচনার মধ্যেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ শুক্রবার দাবি করলেন, এই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো "আতঙ্কিত"। এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘোষ বলেন, "SIR ঘোষণা হতেই উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এখনও সেই আতঙ্ক রয়েছে। উনি হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছেন, কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। আজ উনি নিজেই মেনে নিলেন যে ভুয়ো নামের সংখ্যাটা ১.২০ কোটি ছুঁতে পারে, কারণ এই নামগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ঢোকানো হয়েছিল।"

SIR নিয়ে মমতার উদ্বেগ

প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১.২০ কোটি নাম বাদ যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এই সমস্যা কোনও দল বা ধর্মের ঊর্ধ্বে। এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকার স্বাগত জানিয়েছিল।

ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েন

ভোটার তালিকার 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' বিভাগে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ যাচাই করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অতিরিক্ত সিভিল জজ (যাঁদের তিন বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে) নিয়োগের অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার প্রধান বিচারপতির সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছিল, এই বিপুল পরিমাণ অভিযোগ যাচাই করতে ২৫০ জন বিচারকেরও প্রায় ৮০ দিন সময় লেগে যাবে।