পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদ: আচমকা ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানার লালগোলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আকারে ভাঙন শুরু হয়েছে। যার জেরে দুই দেশের মধ্যবর্তী কাঁটাতারের আন্তর্জাতিক সীমারেখার অস্তিত্ব জিইয়ে রাখা নিয়েই প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। কার্যত যেকোনো মুহূর্তে ঐ কাঁটাতারের সীমারেখা পদ্মা গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার মুখে। জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। 

পাশাপাশি ভাঙনের তীব্রতা লক্ষ করে স্থানীয় সীমন্তরক্ষী বাহিনী পঞ্চায়েতের সাহায্য নিয়ে প্রাথমিক ভাবে বালির বস্তা ও বাঁশ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এদিকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশেষ টিম বানিয়ে ইঞ্জিনিয়র নিয়ে ঘটনাস্থল দফায় দফায় পরিদর্শন করে চলেছে গঙ্গা অ্যান্টি ইরোশান -১ এর অ্যাসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত দাস । তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন , “ প্রায় দু কিলোমিটার এলাকা জুড়ে  ভাঙন দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে এক কিমি এলাকা অত্যন্ত বিপজ্জঙ্ক অবস্থায় রয়েছে ,যে কোনও সময় কাঁটাতার ভাঙগণের মুখে পড়তে পারে। আমরা আপৎকালীন অবস্থায় ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ডে  এক কোটি টাকার আবেদন করেছি। তবে প্রাথমিক ভাবে কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে"।

লালগোলা  ব্লকের এক দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী নদী। অন্য দিকে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা নদী ।এই পদ্মা কোথাও কোথাও ভারত –বাংলাদেশ সীমন্তের  সীমা রেখা হিসেবে চিহ্নিত হয় । সীমান্তের সুরক্ষার জন্য ওই ব্লকের বেশিরভাগ অংশে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলেও , দুই দেশের সীমারেখা দিয়ে পদ্মা প্রবাহিত হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

দুই দেশের সুরক্ষা নিয়ে ওই সব ফাঁকা এলাকাগুলো এখন মাথাব্যাথার কারণ । তার মধ্যেই লালগোলা গ্রাম পঞ্চায়েত  বিলবোরা কোপরা গ্রাম পঞ্চা্যেত এলাকার  মধ্যে পদ্মা নদিতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সীমন্ত রক্ষী বাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে । গত কয়েকদিনের প্রায় দু  কিমি এলাকা জুড়ে ভাঙন  শুরু হয়েছে । তারমধ্যে লালগোলা পঞ্চায়েত এলাকার সীমন্ত রক্ষী বাহিনীর রেনু ক্যাম্প এলাকার কাঁটাতারের ১৫ ও ১৬ নম্বর গেট থেকে ভাঙন এখন মাত্র কয়েক মিটার দূরে ।

এই অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে ভাঙন মোকাবিলায় সীমান্তের জওয়ান স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন । এই ব্যাপারে লালগোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অজয় ঘোষ ও বিল বোরাকোপরা গ্রাম  পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ আলমগীর বলেন , “ বি এস এফ আমাদের কাছে কিছু লেবার চেয়েছিল , সেই মত আমরা ওদের লেবার দিই । বর্তমানে বি এস এফ ও পঞ্চায়েতের যৌথ উদ্যোগে বাঁশের খাঁচা করে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা চলছে । ”