অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নিমার্ণ করেছেন তদন্তকারীরা। কুমারগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডে এবার আদালতে দিয়ে গোপন জবানবন্দি দিলেন নির্যাতিতার পরিবারের লোকেরা। জমা পড়ল সাক্ষ্যপ্রমাণও। গোপন জবানবন্দি নেওয়া হল স্থানীয় ফুলবাড়ি এলাকার এক দোকানকর্মীরও।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছে বিজেপি। ঘটনার দিন রাতেই নির্যাতিতার প্রেমিক-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা, ঘটনার পুনর্নিমাণ করা হয়। নমুনাও সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও। শুক্রবার গোপন জবানবন্দি দেওয়ার জন্য নির্যাতিতার বাবা ও দাদা-কে আদালতে নিয়ে আসে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে ওই কিশোরীকে নিয়ে ফুলবাড়ি এলাকা একটি কাপড়ের দোকানে গিয়েছিল অভিযুক্তেরা। গোপন জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতে নিয়ে আসা হয় ওই দোকানের এক কর্মীকেও। 

আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে দেওয়ালে বিপজ্জনক ফাটল, চুঁচুড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ সরকারি স্কুল

গোপন জবানবন্দিতে কী জানা গেল? ফুলবাড়ি এলাকার দোকানকর্মী জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে তাঁর দোকানের সামনে আসে কুমারগঞ্জের নির্যাতিতা। মিনিট পাঁচেক পর বাইকে সেখানে আসে তিন যুবক। তাদের মধ্যে একজন ওই কিশোরীকে নিয়ে ঢোকে দোকানে। একটি চাদর ও রুমাল কেনে ওই যুবক। চাদরটি নির্যাতিতাকে দিয়ে রুমাল নিজের কাছে রেখে দেয় সে। তিন যুবকের মুখ ঢাকা ছিল, নীল রং-এর একটি বাইকে চেপে এসেছিল তারা।  নির্যাতিতার ভাই-এর বক্তব্য,তাঁদের বাড়িতে গিয়ে প্রায়ই ওই কিশোরীর উপর অত্যাচার চালাত মূল অভিযুক্ত মহাবুয় মিঁয়া। অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরই তাকে মেরে ফেলার ছক কষে অভিযুক্তেরা। কুমারগঞ্জ গণধর্ষণ দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে জানিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত।   

উল্লেখ্য, চাদর কিনতে বাড়ি থেকে থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় নির্যাতিতা ওই কিশোরী। গত সোমবার কুমারগঞ্জের সাফানগর পাকুড়তলা এলাকায় একটি কালভার্টের নিচ থেকে তার অগ্নিদগ্ধ ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।