কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে করিমপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে 'পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৫০)'-এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা সরকারি নির্দেশিকা প্রসঙ্গে মহুয়া ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে করিমপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে 'পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৫০)'-এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা সরকারি নির্দেশিকা প্রসঙ্গে মহুয়া ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস করিমপুর থানায় গিয়ে ওই সাংসদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মহুয়ার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ভর্তুকির প্রসঙ্গ উত্থাপন
মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১৬ মে মহুয়া মৈত্রর অফিসিয়াল পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন যে, গরু জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের নির্দেশিকাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গরু জবাইকারী এবং গবাদি পশু ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গরুর মাংস রফতানি এবং বাণিজ্যিক ভর্তুকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাধারণ মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করার যে নীতি বিজেপি সরকার গ্রহণ করেছে, তারও সমালোচনা করেন।
গবাদি পশুর হাট বন্ধের কোনও উল্লেখ নেই
মহুয়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে করিমপুরের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ওই নির্দেশিকায় গবাদি পশুর হাট বন্ধ করার কোনও কথা বলা হয়নি; বরং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এও দাবি করেন যে, ওই সাংসদ পাচারকারীদের সহায়তা করছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। তবে বিষয়টি এর চেয়েও কিছুটা জটিল। এর আগে গত ৯ মে বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস সোশ্যাল মিডিয়ায় মহুয়া মৈত্রকে 'কালনাগিনী' বলে অভিহিত করেছিলেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পালা শুরু
বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস মহুয়াকে ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, যার বিরুদ্ধে সাংসদ ইতিমধ্যেই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে রেখেছেন। গোলকবাবুর দাবি, বর্তমান অভিযোগটি তারই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বর্তমানে সীমান্তঘেঁষা করিমপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পালা অব্যাহত রয়েছে।
