সোমবার সন্ধ্যায় মধ্যমগ্রামের দেশবন্ধু রোডে কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর  বাড়িতে আগুন লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন স্বামী স্ত্রী দুই জনেই।গুরুতর জখম অবস্থায় দুই জনকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে।দমকলের দুটি ইঞ্জিন গিয়ে অগ্নিদগ্ধ দুই জনকে উদ্ধার করে।প্রায় ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন আয়ত্বে আনেদমকলের লোকজন। বারাসতের দমকল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন মধুসুধন দত্ত(৫৮) ও তাঁর স্ত্রী শান্তি দত্ত(৪২)। কীভাবে আগুন লাগল ঐ পুলিশ কর্মীর বাড়িতে,সেই বিষয়েই তদন্ত করছে দমকল এবং মধ্যগ্রাম থানার পুলিশ।

মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের  দেশবন্ধু রোডের ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি কলকাতার মুচিপাড়া থানার এ এস আই মধুসূদন দত্ত।এদিন সন্ধ্যায় বাড়িতে ছিলেন তিনি এবং তার স্ত্রী শান্তি দত্ত। প্রতিবেশীরা জানান, আগুন লাগার সময় অন্য কেউ ছিলেন না। দম্পতির ছেলে কৃষ্ণ দত্ত  কাজের সূত্রে রবিবার দুপুরে বের হয়েছিলেন। এদিন সন্ধ্যার কিছু আগেই অফিস থেকে বাড়িতে ফিরেছেন মধুসূদন দত্ত। জানা গেছে, ঘটনার সময় তার স্ত্রী শান্তি দত্ত রান্নাঘরে ছিলেন।    

স্থানীয়রা জানান, এদিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ হটাৎই আগুন লেগে যায় ওই পুলিশ কর্মীর  বাড়িতে। কীভাবে আগুন লাগল তার সঠিক কারণ জানা না গেলেও দত্ত দম্পতির ঘরে কেরোসিন তেল মজুত থাকার ফলে আগুন দ্রুত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করছে দমকল বাহিনী। আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাননি দত্ত দম্পতি। তাদের সারা শরীরে আগুন ধরে যায়।বাড়ির মুল গেটে তালা লাগানো থাকায় অগ্নিদগ্ধ দত্ত দম্পতি ঘরের মধ্যেই ছোটাছুটি করতে থাকেন।ঘরের ভিতর থেকেই তারা চিৎকার করতে থাকেন বাঁচাও বাঁচাও বলে।কিন্তু গ্রিলে তালা থাকার ফলে অগ্নিদগ্ধ দুই জনকে কেউ তালা খুলে বের করতে পারেননি। ফলে বিধ্বংসী আগুন আরও ভয়ানক ভাবে তাদের গ্রাস করে।  

বারাসত দমকলের ফায়ার অফিসার জয় প্রকাশ বড়াল বলেন, বাড়ির গ্রিলের তালা ভেঙে দমকল কর্মীরা  অগ্নিদগ্ধ দুই জনকে উদ্ধার করেন।তিনি বলেন ,ঘরে কেরোসিনের জার মজুত থাকার ফলে আগুন ঘরের ভিতরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুই জনকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর জি কর হাসপাতালে। কিভাবে আগুন লেগেছে সেই বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

ঘটনার কিছু পরেই চলে আসেন মধুসূদন দত্তর ছেলে কৃষ্ণ।তিনি বলেন আমি ঘরের সামনে আসতেই শুনতে পাই বাবা আমায় বলছেন তালা খুলতে। পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে। বাবা মা দুই জনেই গুরুতর জখম হয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আত্রেয়ী গুহ বলেন, আগুনটা লেগেছিল রান্না ঘরেই। শর্ট সার্কিট  থেকেও হতে পারে।