বালুরঘাটে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথে মারা গেলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু বাড়ির ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটল কীভাবে? তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। শনিবার মৃতের এক আত্মীয়কে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান খোদ দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বালুরঘাট থানার আধিকারিকরা। বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বালুরঘাট শহরের বিশ্বাসপাড়া এলাকা। বিস্ফোরণ ঘটে ব্যবসায়ী শিবু সেনের বাড়িতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাড়ির একটি দরজা দুমড়েৃ-মুচড়ে ভেঙে যায়।  পাশের একটি ঘরে কিছুটা আগুনও লেগে যায়। অথচ বাড়ির ভিতরে গ্যাসের সিলিন্ডার, ফ্রিজ সবই অক্ষত ছিল! বিস্ফোরণের সময়ে বাড়িতেই ছিলেন শিবু সেনের স্ত্রী প্রতিমা। গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁকে প্রথমে ভর্তি করা হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ার পরে ওই গৃহবধূকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বালুরঘাট থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে কৃষ্ণনগরে তিনি মারা যান বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের পর  শনিবার বিকেলে মরদেহ আনা হয় বালুরঘাটের বিশ্বাসপাড়ায়।

ব্যবসায়ী শিবু সেনের দাবি, যখন বিস্ফোরণ ঘটে, তখন বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। বিকট শব্দ পেয়ে বাড়ির দোতলায় গিয়ে দেখেন, স্ত্রী প্রতিমা ঝলসে গিয়েছেন। ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন তিনি। এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন স্থানীয়দের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা,বিস্ফোরণের সময়ে সম্ভবত বাড়িতে প্রতিমা ছাড়াও আর কেউ ছিল। ঘটনার পর পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় সে।