২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল। পশুপ্রেমী মাত্রই মনে রাখতে পারবেন সেই দিনটি। পশ্চিম মেদিনীপুরের চাঁদড়া রেঞ্জের অন্তর্গত বাঘঘরার জঙ্গলে নির্মমভাবে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে খুঁচিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছিল৷ হত্যা করেছিল জঙ্গলমহলের আদিবাসীরাই৷ সুন্দরবনে একটি বাঘের অস্বাভাবিক মৃত্যু আবার সেই মর্মান্তিকতার স্মৃতিই ফিরিয়ে আনল।
 
সুন্দরবনের আদলমারির জঙ্গলে ৮ এপ্রিল উদ্ধার হল একটি বাঘের পচাগলা দেহ। বন দপ্তরের আধিকারিকদের অনুমান বাঘটির স্বাভাবিক কারণে মৃত্যু হয়নি।  বাঘটির দেহাংশের ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক বন আধিকারিক। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বিপন্ন রয়াল বেঙ্গল টাইগারের ওপর মৎস্যজীবীদের আক্রমণের ভিডিও। দেখা গিয়েছিল সুন্দরবনের কেঁদো দ্বীপের কাছে নদী সাঁতরে একটি বাঘ পীরখালির জঙ্গল থেকে পাশের জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। ঠিক তখনই মৎস্যজীবীদের একটি ট্রলার সেই বাঘটির দিকে এগিয়ে যায়।

জলযানটিকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে হুঙ্কার শুরু করে বাঘটি। জলের মধ্যেই থাবা ছুঁড়তে থাকে। ভয়ে ট্রলারটির দিকে এলে বাঘটির উপর বড় বাঁশ নিয়ে হামলা করেন ওই ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীরা। কাজেই বনদপ্তরেরর অনুমানও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত মৃত বাঘের কোনও দেহাংশ সরানে হয়নি। ফলে বাঘটিকে চোরাশিকারিরা মেরে ফেলেছে, এ কথাও বলা যাচ্ছে না। তাহলে বাঘটির মৃত্যুর আসল কারণ কী? ক্রমেই দানা বাঁধছে রহস্য।