কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজকে (Leander Paes) 'এক্স' (X) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিল। তাঁর সুরক্ষার জন্য সিআইএসএফ (CISF) কর্মীদের নিযুক্ত করেছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে লিয়েন্ডার পেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজকে (Leander Paes) 'এক্স' (X) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিল। তাঁর সুরক্ষার জন্য সিআইএসএফ (CISF) কর্মীদের নিযুক্ত করেছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে লিয়েন্ডার পেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হল। সরকারি কর্তাদের সূত্রমতে, লিয়েন্ডার পেজ 'এক্স' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয় পাবেন, যার আওতায় সিআইএসএফ কর্মীদের মোতায়েন করা হবে। পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৫২ বছরের লিয়েন্ডার পেজ বিজেপিতে যোগ দিয়ে তাঁর এই পদক্ষেপকে কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি দায়িত্ব এবং দেশসেবার একটি সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজেপিতে তাঁর যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন এবং সেখানে নির্বাচনী প্রচারে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সুদীর্ঘ ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ হিসেবে লিয়েন্ডার পেজকে ব্যাপকভাবে সক্রিয় দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে যোগদান করলেও পরে কলকাতায় বিজেপি পার্টি অফিসেও আসনে লিয়েন্জার। শহরে এসে নিজের বাঙালি পরিচয়ে জোর দিলেন লিয়েন্ডার পেজ। পাশাপাশি বাঙালি অস্মিতার প্রশ্নে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন। এবার তিনি দেশসেবা করতে চান বলে জানান অলিম্পিকে পদকজয়ী একমাত্র ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড়। মেসি সফরে যুবভারতীকাণ্ডেও মুখ খোলেন লিয়েন্ডার পেজ। তিনি বলেন, "আমার দুঃখ হয়, পশ্চিমবঙ্গে মেসিকে অসম্মান করা হল। আমার পশ্চিমবঙ্গকে এত অসম্মান হতে হবে কেন?সৌরভদা, স্নেহাশিসদা বা কোনও খেলোয়াড় ক্রীড়া মন্ত্রী হলে এসব হত না।"
তিনি আরও বলেন, "আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন। আমি তাঁকে বলেছি, আমি বাংলাকে 'বৃদ্ধাশ্রম' বানাতে চাই না, বাংলার যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই, যাতে ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্য বা দেশে চলে না যায়। ১৯০০ সালে নরম্যান প্রিচার্ড কলকাতায় জন্ম নিয়ে অলিম্পিকে অংশ নেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র চারজন অলিম্পিক পদক জিতেছেন। আমরা কী করছি নতুন প্রজন্মের জন্য? আমরা অন্য খেলাগুলোর জন্য কী করছি? এখানে একটি স্থায়ী ইনডোর টেনিস কোর্টও নেই। বর্ষা আর গরমে ছয়-সাত মাস খেলাই সম্ভব হয় না। আমি চাই বাংলায় স্পোর্টস, স্পোর্টস এডুকেশন, ইন্ডাস্ট্রি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে উঠুক। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। আমি সেই ভিশনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত ও দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।'


