মথুরাপুরে নাবালক খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়। অবশেষে ফেসবুক থেকে মিলল খুনের সূত্র। রুদ্রাক্ষের মালা চিনিয়ে দিল অভিয়ুক্তকে। দশম শ্রেণির ছাত্র সন্তোষ খুনে নাম জড়াল চার নাবালকের।

কোনওভাবেই খুনের কিনারা করতে পারছিল না পুলিশ। অবশেষে সন্তোষ খুনে পথ বাতলে দিল রুদ্রাক্ষের একটা মালা। খুনের দিন নির্মীয়মান বাড়ি থেকে যা উদ্ধার করে পুলিশ। পাড়ারই এক বাসিন্দা পুলিশকে জানান, এরকমই একটি রুদ্রাক্ষের মালা সন্তোষের বন্ধু সুমনের গলায় দেখেছেন তিনি। ফেসবুকে সেই ছবি দেখেই সুমনের ওপর সন্দেহ হয় তাঁর। এরপর আর বেশি দেরি করেনি সন্তোষের বাড়ির লোকজন। দ্রুত বিষয়টি খুলে বলা হয় পুলিশের কাছে। ছবি দেখেই সুমনের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। পরে সুমনকে গ্রেফতার করতেই বেরিয়ে আসে আর তিন বন্ধুর নাম। 

দশম শ্রেণির ছাত্র খুনে বন্ধুদের নাম শুনেই ফেটে পড়ে পাড়ার লোকজন। খুনিদের এক্ষুনি গ্রেফতার করার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মথুরাপুরের তিল্লান গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ। সোমবার বিকেলের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সুমনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয় মৃতের আরও তিন নাবালক বন্ধু অম্বুনাথ, দেবা ও সত্যজিৎকেও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। রুজু হয়েছে নাবালক খুনের মামলাও। চার নাবালক অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে।

এলাকবাসীরা জানিয়েছে, কালীপুজোর পরের দিন তিল্লান গ্রামে এক নির্মীয়মাণ বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় দশম শ্রেণির ছাত্র সন্তোষ হালদারের দেহ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ,২৭ অক্টোবর সকাল দশটা নাগাদ সন্তোষের চার বন্ধু ভলিবল খেলবে বলে ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধের পরেও ছেলে বাড়ি ফিরছে না দেখে বন্ধুদের বাড়িতে খোঁজ করেন সন্তোষের বাবা। কিন্তু তাতেও কোনও খবর না পেয়ে চিন্তা বাড়ে তাঁর।  ২৮ অক্টোবর সকালে ছেলের বন্ধু অম্বুনাথের থেকে খবর পান গ্রামের একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির মধ্যে কাদামাখা ছেলের দেহ পড়ে রয়েছে। খবর শুনে সেখানে ছুটে যায় পরিবার। দেখা যায়, হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার চিহ্নও রয়েছে সন্তোষের শরীরে।  সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মথুরাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্তোষের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। সন্তোষের যে চার বন্ধু তাকে খেলতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।