আলু-সহ অন্যান্য কৃষিজ পণ্য অন্য ভিন রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নিল রাজ্য সরকার। আজ নবান্নে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আন্তঃরাজ্য সীমান্তে আলু চাষি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর হেনস্থা করা যাবে না।
আলু-সহ অন্যান্য কৃষিজ পণ্য অন্য ভিন রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নিল রাজ্য সরকার। আজ নবান্নে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আন্তঃরাজ্য সীমান্তে আলু চাষি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর হেনস্থা করা যাবে না। তিনি বলেছেন, আলু পরিবহণে অযথা বাধা দেওয়া হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর সেই ক্ষতি গোটা রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সীমান্তে কোনও অযৌক্তিক চেকিং বা হয়রানি না হয়। আলু চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও একই সুরক্ষা থাকবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে পণ্য পরিবহণ করতে পারেন।

বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ইশতেহারে কৃষকদের আর্থিক সাহায্য বাড়ানোর কথাও হলা হয়েছিল। আলু, ধান ও আম চাষ বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল বিজেপির ইশতেহারে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে। কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকা দরে ধান কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ইশতেহারে বলা হয়েছিল, আলু চাষিদের জন্য কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্লকে ব্লকে আলু ও আমের জন্য কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে। যেখানে আলু বেশি উৎপাদন হয় সেখানে আলুর জন্য, যেখানে আম বেশি হয় - সেখানে আমের জন্য। এছাড়াও, রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে 'প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা'র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রফতানিকারক রাজ্যে উন্নীত করা হবে। রাজ্যে ধান উৎপাদন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বাড়ানো হবে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন।
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের ঘোষণা পরে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায়, "খুব ভাল পদক্ষেপ। এর আগে রাজ্যে বর্ডারে আলু আটকে দেওয়া হত। অন্য রাজ্যে যেতে দেওয়া হত না। আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে এর কারণে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।" আলুর দাম কম থাকায় আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন কৃষকরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হবে বলেই মনে করছেন লালু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আলুর উৎপাদন ও যোগানের ভিত্তিতে দাম ঠিক হয়। এবার আমাদের রাজ্যে আলুর উৎপাদন খুব বেশি হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। দাম কিছুটা হলেও বাড়তে পারে।”
