হোমের জীবন কাটিয়ে সংসার জীবন শুরু বাঁকুড়ার অনাথ কন্যার। ছোটবেলায় বাবা মাকে হারিয়েঠাঁই হয়েছিল হোমে। সেখানেই বড় হওয়া। দেখাশোনা করে অনাথ কন্যার বিয়ে দিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর মন্দিরে মালাবদল, সিঁদুরদানের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হল বিয়ে। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক এবং অন্যান্য আধিকারিকরা। নবদম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন- ঢেউয়ের আঁচড় আর মাছের কামড় সহ্য করে পুনর্জীবনের গল্প শোনালেন নামখানার মৎসজীবী

বাঁকুড়ার কল্যাণপুরের বাসিন্দা ছবি। বাবা ও মাকে হারিয়ে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষিকার বাড়িতে আশ্রয় হয় তাঁর। সেখানেই পরিচারিকার কাজ করত সে। সেখান থেকে প্রশাসনিক সহযোগিতায়  হোমে ফিরে আসে ছবি। প্রথমে বাঁকুড়ার একটি হোম এবং পরে বিষ্ণুপুরের হোমে বড় হয় সে। প্রায় তিন বছর বিষ্ণুপুরের হোমে কাটানোর পরে জেলা প্রশাসনের সৌজন্যেই নতুন জীবন শুরু হল এই তরুণীর। 

বাঁকুড়া শহরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা  দেবাশিস দাসের সঙ্গে ছবির বিয়ের কথা পাকা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই ছেলের বাড়ির সম্পর্কে যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত পাকা হয়। ঠিক হয় বিয়ের দিন। যাবতীয় নিয়ম মেনে শুক্রবার বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর মন্দিরে সম্পন্ন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। গায়ে হলুদ, অধিবাস, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, হস্তবন্ধন, সিঁদুরদান এবং অগ্নি সাক্ষী করে ছবি এবং দেবাশিসের চার হাত এক হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস। 

নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে উপহার তুলে দেন তিনি। জেলাশাসক ছাড়াও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। ছবির বিয়ে ভালোয় ভালোয় মেটানো নিয়ে যথেষ্টই চিন্তা ছিল হোম কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাদের। বিয়ের অনুষ্ঠান মেটার পরে তাই নিশ্চিন্তে মিষ্টিমুখ করলেন সবাই।