ছাত্রের চুলের ছাঁট পছন্দ হয়নি শিক্ষকের। তাই নিজে হাতেই ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছিলেন তিনি। যার জেরে স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রের উপরে 'মানসিক নির্যাতনের' অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সুদর্শনপুর দ্বারিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্র স্কুলে। বিতর্কে জড়িয়ে পড়া শিক্ষক অবশ্য চুল কাটার কথা স্বীকার করেছেন। যদিও এর মধ্যে নিজের কোনও দোষ দেখছেন না তিনি। 

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। শুক্রবার টিফিনের পরে একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য শাখার পড়ুয়া এক ছাত্রকে অন্য এক সহপাঠীর সঙ্গে মারপিট করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রকে তাঁর আচরণের জন্য সতর্ক করার পাশাপাশি চুলের ছাঁট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রধান শিক্ষকের দাবি, ওই ছাত্র যে কায়দা চুল কেটেছিল, তা ছাত্রসুলভ নয়। চুল ঠিক করে কেটে ছাত্রকে স্কুলে আসতে নির্দেশ দেন তিন। এর প্রতিবাদ করে ছাত্রটি। এর পরেই প্রধান শিক্ষক তাঁর টেবিল থেকে কাঁচি এনে নিজের হাতেই  অংশ কেটে দিয়ে তাকে ক্লাসে ফেরত পাঠান। শনিবার স্কুল শুরু হতেই ছাত্রটির বাড়ির সদস্যরা স্কুলে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি আঁচ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সাহায্য চায়।

ওই ছাত্রের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তার চুল কেটে দেওয়ার পরেই তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে শুরু করে তার সহপাঠীরা। বিষয়টি তার মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও ফেসবুকে অভিযোগ করে ওই ছাত্র। তার অভিযোগ, ফেসবুক পোস্ট তুলে নেওয়ার জন্য এক শিক্ষক তার বাড়ি গিয়ে তাকে চাপ দেন। 

ছাত্রটির মায়ের অভিযোগ, 'শাসন করার নামে আমার ছেলের উপরে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে স্কুলে। চুলের ছাঁট নিয়ে শিক্ষকদের কোনও আপত্তি থাকলে অভিভাবকদের ডেকে তা জানিয়ে দেওয়া যেত। গোটা ঘটনায় আমরাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

প্রধান শিক্ষক অভিজিত দত্ত জানান, 'ওই ছাত্রটিকে এর আগেও বেশ কয়েকবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সতর্ক করা হয়েছিল। তাতে কোনও কাজ হয়নি। শুক্রবার সে ক্লাসের একটি ছাত্রকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছিল। এই বিষয়ে তাকে সতর্ক করার জন্য আমার কাছে আনা হয়। তখন লক্ষ্য করি, তার চুলের ছাঁট ছাত্রসুলভ নয়। সেই জন্য আমি কাঁচি দিয়ে তার চুল কেটে দিই। আমি জানি সেটা শিক্ষকের কাজ নয়। কিন্তু অভিভাবক হিসেবেই এই কাজ করেছি।' শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। ওই ছাত্রের অবশ্য আশঙ্কা, প্রধান শিক্ষকের এই আচরণের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় এবার স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও রোষের মুখে পড়তে হবে তাকে।