Historical Durga Puja: এই প্রাচীন উৎসবের টান শুধু বৈতল গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের একাধিক গ্রাম ছাড়াও হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমান এই ঐতিহ্যবাহী কাদাখেলা দেখতে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রয়েছে।

Historical Durga Puja: চারশো বছরের ঐতিহ্যে আজও অমলিন বৈতলের কাদাখেলা বিজয়োৎসব ঘিরে। বিজয়া দশমীতে মা ঝগড়াই ভঞ্জনী দেবীর আরাধনাকে ঘিরে সম্প্রীতি ও উচ্ছ্বাসে মাতল বাঁকুড়ার জয়পুরের বৈতল এলাকা।

বিজয়া দশমী মানেই একদিকে মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর বিষাদ, অন্যদিকে সিঁদুরখেলার আনন্দ। কিন্তু বাঁকুড়া জেলার জয়পুর ব্লকের বৈতল গ্রামে বিজয়া দশমীর উদ্‌যাপন একেবারেই অন্যরকম। এখানে প্রায় চারশো বছরের ঐতিহ্য মেনে আজও অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী কাদাখেলা বিজয়োৎসব। প্রাচীন এই লোকাচারকে কেন্দ্র করে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন বৈতল-সহ আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ।

বৈতলের কাদাখেলা বিজয়োৎসব:- 

দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগঘন মুহূর্তেই বৈতল গ্রামে শুরু হয় এই অভিনব উৎসব। নারী ও পুরুষ পৃথকভাবে অংশ নেন কাদাখেলায়। সকাল থেকেই কাদামাটিতে মেতে ওঠেন আবালবৃদ্ধবনিতা। কাদামাখা শরীর, জলের ছিটে আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব, সৌভ্রাতৃত্ব ও মিলেমিশে থাকার আনন্দ। বৈতল গ্রামের আরাধ্যা দেবী মা ঝগড়াই ভঞ্জনী, যিনি মা দুর্গারূপে পূজিতা হন। পুজোর প্রচলিত রীতি-নীতি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে মাটির বাঁধ নির্মাণ করে সেখানে প্রায় এক হাঁটু পর্যন্ত জল জমিয়ে তৈরি করা হয় কাদাখেলার পরিবেশ। এরপর সেই জল-কাদায় নেমে ভক্তি, আবেগ ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষজন।

এই প্রাচীন উৎসবের টান শুধু বৈতল গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের একাধিক গ্রাম ছাড়াও হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমান এই ঐতিহ্যবাহী কাদাখেলা দেখতে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া কাদাখেলার উৎসব চলে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত।

এই উৎসবের সমাপ্তির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এক বিশেষ প্রথা। পাশের হিজলডিহা গ্রামের বক্সি পরিবারের প্রতিনিধি এসে জলের বাঁধ কাটার পরই পরিসমাপ্তি ঘটে এই পবিত্র কাদাখেলা বিজয়োৎসবের। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমাজ, বদলেছে জীবনযাত্রা। কিন্তু বৈতল গ্রামের এই প্রাচীন ঐতিহ্য আজও অমলিন। ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকাচার ও সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে কাদাখেলা বিজয়োৎসব শুধু একটি উৎসব নয়, বরং গ্রামবাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।